নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ৬
- আপডেট সময় : ০১:৪৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
- / ৬০ বার পঠিত

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে একটি মোটরসাইকেল ও একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। গতকাল শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেলের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে ছাত্রদল।
সমাবেশ চলাকালে কালাদরাপ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি মিছিলের খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে যান। পরে কর্মসূচি শেষে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ফেরার পথে কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমকে তার বাড়ির পাশের একটি দোকানে দেখতে পান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার খবর প্রচার করা হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয়সহ ছাত্রদল ও যুবদলের অন্তত ছয় নেতাকর্মী আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী শাহাদাত হোসেন সেলিমের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন এবং একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
সংঘর্ষের ঘটনায় আহত নেতাকর্মীদের দেখতে হাসপাতালে যান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো ও সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদসহ দলের অন্যান্য নেতারা। এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ঘটনার নিন্দা জানিয়ে হামলার জন্য ক্ষমতাসীনদের দায়ী করেন। তিনি দলের নেতাকর্মীদের উসকানিতে পা না দিয়ে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান। তবে অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও একটি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।























