পুশইন ঠেকাতে বেনাপোল সীমান্তে দেড় গুণ বিজিবি মোতায়েন
- আপডেট সময় : ০৬:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
- / ৬০ বার পঠিত

ভারত থেকে সম্ভাব্য পুশইন ঠেকাতে যশোরের বেনাপোল সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নতুন নির্দেশনার আলোকে সীমান্ত এলাকায় আগের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে বেনাপোল সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিজিবির জোরদার টহল কার্যক্রম দেখা যায়। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও বিজিবির সঙ্গে সহযোগিতা করতে দেখা গেছে। এর আগে গত ৩১ মে রাতে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে শতাধিক নারী ও শিশুকে বাংলাদেশি দাবি করে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও তৎপরতার কারণে ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বেনাপোল চেকপোস্ট আইসিপি ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার মিজান হোসেন বলেন, সীমান্তের ওপারে বিএসএফের বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে কিছু মানুষকে জড়ো করে রাখা হয়েছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। সম্ভাব্য পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। তিনি সীমান্ত সুরক্ষায় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
বিজিবি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের ২৬টি সীমান্তবর্তী জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করে সেখানে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এসব জেলার মধ্যে রয়েছে যশোর, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, ফেনী, মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খাগড়াছড়ি, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর।
সীমান্ত সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় নারী, পুরুষ ও শিশুদের জড়ো করে রাখার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তাদের মধ্যে কাউকে কাউকে ফেরত নেওয়া হলেও অনেককে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ফলে তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট ৪ হাজার ৪৮৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সঙ্গে। বাকি অংশ ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম ও আসাম রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিজিবি এবং যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশইন ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।























