
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়নের বাউলিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও ভাবগানের মনোমুগ্ধকর আসর। গ্রামীণ ঐতিহ্য, ক্রীড়া ও লোকজ সংস্কৃতিকে লালন করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বাউলিয়া গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিজ্ঞ আরোহী ও ঘোড়ার মালিকরা অংশ নেন। প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে আশপাশের গ্রাম ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী ছুটে আসেন। নারী, পুরুষ ও শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
দিনের আলোয় জমে ওঠে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। প্রতিটি পর্বে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে মাঠ। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ভাবগানের আসর, যা অনুষ্ঠানে যোগ করে ভিন্নমাত্রা এবং দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহাকুলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক লাভলুর রহমান, বাঘারপাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির, সাবেক ইউপি সদস্য জাহানবী বিশ্বাস, বর্তমান ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন এবং দোহাকুলা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আতাউর রহমান।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসলাম বিশ্বাস এবং উপজেলা কৃষক দলের সহ-সভাপতি জুয়েল রানা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুর রহমান, সহ-দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আইয়ুব খান মোল্লা, দোহাকুলা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আনিসুর রহমানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় বক্তারা বলেন, গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করতে এ ধরনের অনুষ্ঠান নিয়মিত আয়োজনের প্রয়োজন রয়েছে। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় ও ভাবগানের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, ঘোড়দৌড় শুধু একটি খেলা নয়; এটি গ্রামীণ ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও আনন্দের এক অনন্য প্রতীক। সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করেই বাউলিয়া গ্রামে আবারও মিলিত হয়েছে হাজারো মানুষের প্রাণের উৎসব।





















