ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মুখে রক্তের দাগ

মণিরামপুরে অন্তঃসত্ত্বা নারীর রহস্যজনক মৃত্যু

যশোরের মণিরামপুরে তাসলিমা খাতুন ময়না (২৩) নামে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে পৌর শহরের মোহনপুর ওয়াবদা মোড় এলাকায় বাবার বাড়ির নির্মাণাধীন একটি ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত ময়না ওই এলাকার মৃত ইব্রাহিম গাজীর মেয়ে এবং উপজেলার মনোহরপুর কুমারঘাটা গ্রামের হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী। প্রায় ৭–৮ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের চার বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে কয়েকদিন আগে ময়না বাবার বাড়িতে চলে আসেন। বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে না পেয়ে বাড়ির পাশের নির্মাণাধীন ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্বজনদের দাবি, মরদেহের মুখ ও কানে রক্তের দাগ ছিল। তাদের ধারণা, এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে। নিহতের বোন মারুফা অভিযোগ করেন, ময়নাকে প্রায়ই নির্যাতনের শিকার হতে হতো। এছাড়া সম্প্রতি তার স্বামী হেলাল উদ্দিন আরেকটি বিয়ে করেছেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর নিহতের স্বামী হেলাল উদ্দিন ও সৎবাবা রফিকুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।

মণিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বদরুজ্জামান জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ বিষয়ে মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুখে রক্তের দাগ

মণিরামপুরে অন্তঃসত্ত্বা নারীর রহস্যজনক মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৮:০৬:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

যশোরের মণিরামপুরে তাসলিমা খাতুন ময়না (২৩) নামে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে পৌর শহরের মোহনপুর ওয়াবদা মোড় এলাকায় বাবার বাড়ির নির্মাণাধীন একটি ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত ময়না ওই এলাকার মৃত ইব্রাহিম গাজীর মেয়ে এবং উপজেলার মনোহরপুর কুমারঘাটা গ্রামের হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী। প্রায় ৭–৮ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের চার বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে কয়েকদিন আগে ময়না বাবার বাড়িতে চলে আসেন। বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে না পেয়ে বাড়ির পাশের নির্মাণাধীন ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্বজনদের দাবি, মরদেহের মুখ ও কানে রক্তের দাগ ছিল। তাদের ধারণা, এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে। নিহতের বোন মারুফা অভিযোগ করেন, ময়নাকে প্রায়ই নির্যাতনের শিকার হতে হতো। এছাড়া সম্প্রতি তার স্বামী হেলাল উদ্দিন আরেকটি বিয়ে করেছেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর নিহতের স্বামী হেলাল উদ্দিন ও সৎবাবা রফিকুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।

মণিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বদরুজ্জামান জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ বিষয়ে মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।