ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ, প্রতিবাদে মানববন্ধন

বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজে ১৬টি মেহগনি গাছের মোটা ডাল কর্তন

যশোর দর্পণ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:১৯:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৬১ বার পঠিত

যশোরের বাঘারপাড়া ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ে ডাল ছাঁটাইয়ের নামে ১৬টি মেহগনি গাছের বড় বড় ডাল কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ ডাল ছাঁটাইয়ের অনুমতি থাকলেও গাছগুলোর মোটা ডাল কেটে তৈরি করা হয়েছে বড় বড় কাঠের লগ। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত স্থানীয় চারজন শ্রমিক কলেজ ক্যাম্পাসে গাছের ডাল কাটার কাজ করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কলেজের মূল ভবনের সামনে সারিবদ্ধভাবে প্রায় ২৫টি বড় মেহগনি গাছ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব গাছ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ছায়া দিয়ে আসছে। তবে শনিবার গাছগুলোর মোটা ডাল কেটে ফেলায় গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন ও খেলার মাঠের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ডাল ছাঁটাইয়ের পরিবর্তে গাছগুলোর মোটা ডাল কেটে কাঠের লগ তৈরি করা হয়েছে। এসব কাঠ বিক্রির মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও তাঁদের সন্দেহ। তবে কাঠ বিক্রি কিংবা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে ডাল কাটার প্রতিবাদে রোববার (১ নভেম্বর) সকালে কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন। তাঁরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন বলেন, গাছের ডাল কাটার বিষয়ে কলেজের রেজুলেশন করা হয়েছে। সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নেওয়ার পরই ডাল কাটার কাজ শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গাছের ডালের কারণে কলেজের মাঠে খেলাধুলার পরিবেশ ছিল না। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলা চালু করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই গাছের ডালপালা ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি মাঠ সংস্কারের কাজ শুরু করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভুপালী সরকার বলেন, গাছের ডালপালা কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কোনো গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, অনুমতির বাইরে কোনো গাছের মোটা ডাল কাটা হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কলেজের সবুজ পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ট্যাগস :

শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ, প্রতিবাদে মানববন্ধন

বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজে ১৬টি মেহগনি গাছের মোটা ডাল কর্তন

আপডেট সময় : ০৮:১৯:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

যশোরের বাঘারপাড়া ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ে ডাল ছাঁটাইয়ের নামে ১৬টি মেহগনি গাছের বড় বড় ডাল কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ ডাল ছাঁটাইয়ের অনুমতি থাকলেও গাছগুলোর মোটা ডাল কেটে তৈরি করা হয়েছে বড় বড় কাঠের লগ। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত স্থানীয় চারজন শ্রমিক কলেজ ক্যাম্পাসে গাছের ডাল কাটার কাজ করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কলেজের মূল ভবনের সামনে সারিবদ্ধভাবে প্রায় ২৫টি বড় মেহগনি গাছ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব গাছ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ছায়া দিয়ে আসছে। তবে শনিবার গাছগুলোর মোটা ডাল কেটে ফেলায় গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন ও খেলার মাঠের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ডাল ছাঁটাইয়ের পরিবর্তে গাছগুলোর মোটা ডাল কেটে কাঠের লগ তৈরি করা হয়েছে। এসব কাঠ বিক্রির মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও তাঁদের সন্দেহ। তবে কাঠ বিক্রি কিংবা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে ডাল কাটার প্রতিবাদে রোববার (১ নভেম্বর) সকালে কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন। তাঁরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন বলেন, গাছের ডাল কাটার বিষয়ে কলেজের রেজুলেশন করা হয়েছে। সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নেওয়ার পরই ডাল কাটার কাজ শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গাছের ডালের কারণে কলেজের মাঠে খেলাধুলার পরিবেশ ছিল না। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলা চালু করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই গাছের ডালপালা ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি মাঠ সংস্কারের কাজ শুরু করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভুপালী সরকার বলেন, গাছের ডালপালা কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কোনো গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, অনুমতির বাইরে কোনো গাছের মোটা ডাল কাটা হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কলেজের সবুজ পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।