ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেনাপোল বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা

দর্পণ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / ৪৫ বার পঠিত

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রমে নিয়োজিত দুটি শ্রমিক সংগঠন অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। আগামী রোববার থেকে এ কর্মসূচি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া সংগঠন দুটি হলো বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন এবং বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন। বুধবার সংগঠন দুটির নেতারা বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দেন। বেনাপোল বন্দরের পরিচালকের মাধ্যমে আবেদনটি পাঠানো হয়।

আবেদনপত্রে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদার গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের সংগঠনের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি, সমন্বয় বা কার্যকর যোগাযোগ রক্ষা করেননি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগুলোর সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা কর্মবিরতির মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু এবং বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী বলেন, অতীতেও কয়েকবার কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে বন্দর পরিচালকের আশ্বাসের ভিত্তিতে সেসব কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।

তারা জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কোনো কার্যকর সমাধান না আসায় আগামী রোববার থেকে বন্দরে শ্রমিকদের মাধ্যমে পরিচালিত সব ধরনের পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কর্মবিরতি কার্যকর হলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর বেনাপোলের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশ-ভারত আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, দুই শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত আবেদনপত্র বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আবেদনপত্রটি ইতোমধ্যে ঢাকা প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং সমস্যার একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসবে।”

ট্যাগস :

বেনাপোল বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৮:৪৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রমে নিয়োজিত দুটি শ্রমিক সংগঠন অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। আগামী রোববার থেকে এ কর্মসূচি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া সংগঠন দুটি হলো বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন এবং বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন। বুধবার সংগঠন দুটির নেতারা বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দেন। বেনাপোল বন্দরের পরিচালকের মাধ্যমে আবেদনটি পাঠানো হয়।

আবেদনপত্রে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদার গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের সংগঠনের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি, সমন্বয় বা কার্যকর যোগাযোগ রক্ষা করেননি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগুলোর সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা কর্মবিরতির মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু এবং বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী বলেন, অতীতেও কয়েকবার কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে বন্দর পরিচালকের আশ্বাসের ভিত্তিতে সেসব কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।

তারা জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কোনো কার্যকর সমাধান না আসায় আগামী রোববার থেকে বন্দরে শ্রমিকদের মাধ্যমে পরিচালিত সব ধরনের পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কর্মবিরতি কার্যকর হলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর বেনাপোলের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশ-ভারত আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, দুই শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত আবেদনপত্র বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আবেদনপত্রটি ইতোমধ্যে ঢাকা প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং সমস্যার একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসবে।”