ঢাকা ০৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাতিল ১০৩ অনাপত্তি সনদ

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:২০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৬ বার পঠিত

ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি আজ থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশ আমদানির ১০৩টি অনাপত্তি সনদ (এনওসি) বাতিলের পর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। ফলে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় ইলিশের আমদানি বন্ধ রয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়। এর পর থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। তবে হঠাৎ করে ইলিশ আমদানি বন্ধের নির্দিষ্ট কারণ মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আমদানি করা ভারতীয় ইলিশকে দেশীয় বা পদ্মার ইলিশ হিসেবে বিক্রি করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা, কম মূল্য দেখিয়ে আমদানির মাধ্যমে অর্থ পাচারের সম্ভাবনা এবং দেশীয় ইলিশ উৎপাদনে জেলেদের আগ্রহ বাড়াতে আমদানি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, তুলনামূলক বেশি লাভের আশায় সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বেড়ে যায়। আমদানির সময় প্রতি কেজি ইলিশের মূল্য ৪৮ সেন্ট থেকে ২ মার্কিন ডলার পর্যন্ত দেখানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধের পর এসব ইলিশ বন্দর থেকে ছাড় করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি কেজি প্রায় ৫০০ টাকার মধ্যে আমদানি করা ভারতীয় ইলিশ বাজারে পদ্মার ইলিশ হিসেবে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়েছে।

সাধারণ ক্রেতা রহিম বলেন, আমদানিকৃত ভারতীয় ইলিশ দেখতে অনেকটা বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের মতো হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। স্বাদে পার্থক্য থাকলেও বাহ্যিকভাবে মিল থাকায় কেউ কেউ দেশি ইলিশ মনে করে ভারতীয় ইলিশ কিনছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি বাজার তদারকির সময় চড়া দামে ভারতীয় ইলিশ বিক্রির অভিযোগে কয়েকজন বিক্রেতাকে জরিমানাও করা হয়েছে। বাজারে ভারতীয় ইলিশের সরবরাহ বাড়লে দেশীয় ইলিশ আহরণে জেলেদের আগ্রহ কমে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া বাজারমূল্যের তুলনায় কম মূল্য দেখিয়ে ইলিশ আমদানি করা হলে ‘আন্ডার ইনভয়েসিং’-এর মাধ্যমে অর্থ পাচারের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সরকার ইলিশ আমদানি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইলিশ আমদানিকারক সৈয়েদ মহিদুল হক রুবাই বলেন, “হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ করায় আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমদানির উদ্দেশ্যে ওপারে আমাদের ক্রয় করা ইলিশ রাখা হয়েছিল। এখন কম দামে তা ফেরত দিতে হবে। এছাড়া আমদানি খরচের লোকসান তো রয়েছেই।”

বেনাপোলের মৎস্য ও মান নিয়ন্ত্রণ অফিসের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় ইলিশ আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। আমদানি বন্ধ হওয়ায় বেনাপোলের বাজারে ভারতীয় ইলিশের সরবরাহও বন্ধ রয়েছে। চলতি বছরে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৫৩৫ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ৭৩৯ দশমিক ৫০ টন ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৫৩৫ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি হয়েছে।

১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের পর অবশিষ্ট অনুমোদনের আওতায় ইলিশ আমদানি করা হবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ট্যাগস :

বাতিল ১০৩ অনাপত্তি সনদ

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ

আপডেট সময় : ০৭:২০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি আজ থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশ আমদানির ১০৩টি অনাপত্তি সনদ (এনওসি) বাতিলের পর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। ফলে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় ইলিশের আমদানি বন্ধ রয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়। এর পর থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। তবে হঠাৎ করে ইলিশ আমদানি বন্ধের নির্দিষ্ট কারণ মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আমদানি করা ভারতীয় ইলিশকে দেশীয় বা পদ্মার ইলিশ হিসেবে বিক্রি করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা, কম মূল্য দেখিয়ে আমদানির মাধ্যমে অর্থ পাচারের সম্ভাবনা এবং দেশীয় ইলিশ উৎপাদনে জেলেদের আগ্রহ বাড়াতে আমদানি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, তুলনামূলক বেশি লাভের আশায় সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বেড়ে যায়। আমদানির সময় প্রতি কেজি ইলিশের মূল্য ৪৮ সেন্ট থেকে ২ মার্কিন ডলার পর্যন্ত দেখানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধের পর এসব ইলিশ বন্দর থেকে ছাড় করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি কেজি প্রায় ৫০০ টাকার মধ্যে আমদানি করা ভারতীয় ইলিশ বাজারে পদ্মার ইলিশ হিসেবে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়েছে।

সাধারণ ক্রেতা রহিম বলেন, আমদানিকৃত ভারতীয় ইলিশ দেখতে অনেকটা বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের মতো হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। স্বাদে পার্থক্য থাকলেও বাহ্যিকভাবে মিল থাকায় কেউ কেউ দেশি ইলিশ মনে করে ভারতীয় ইলিশ কিনছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি বাজার তদারকির সময় চড়া দামে ভারতীয় ইলিশ বিক্রির অভিযোগে কয়েকজন বিক্রেতাকে জরিমানাও করা হয়েছে। বাজারে ভারতীয় ইলিশের সরবরাহ বাড়লে দেশীয় ইলিশ আহরণে জেলেদের আগ্রহ কমে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া বাজারমূল্যের তুলনায় কম মূল্য দেখিয়ে ইলিশ আমদানি করা হলে ‘আন্ডার ইনভয়েসিং’-এর মাধ্যমে অর্থ পাচারের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সরকার ইলিশ আমদানি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইলিশ আমদানিকারক সৈয়েদ মহিদুল হক রুবাই বলেন, “হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ করায় আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমদানির উদ্দেশ্যে ওপারে আমাদের ক্রয় করা ইলিশ রাখা হয়েছিল। এখন কম দামে তা ফেরত দিতে হবে। এছাড়া আমদানি খরচের লোকসান তো রয়েছেই।”

বেনাপোলের মৎস্য ও মান নিয়ন্ত্রণ অফিসের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় ইলিশ আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। আমদানি বন্ধ হওয়ায় বেনাপোলের বাজারে ভারতীয় ইলিশের সরবরাহও বন্ধ রয়েছে। চলতি বছরে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৫৩৫ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ৭৩৯ দশমিক ৫০ টন ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৫৩৫ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি হয়েছে।

১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের পর অবশিষ্ট অনুমোদনের আওতায় ইলিশ আমদানি করা হবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।