পুজো পুজো গন্ধ লেগেছে'
মণিরামপুরে সকল দুর্গাপূজা মন্দির সেজে উঠেছে
- আপডেট সময় : ০৬:২৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ৬ বার পঠিত

প্রতি বছরের ন্যায় আসছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় আনন্দ মুখর উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শরতের কাশফুল জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের জন্যই দেবী দুর্গার স্বর্গ থেকে আগমন ঘটেছিল মর্ত্যলোকে।
শরতের নির্মল প্রকৃতির নীল আকাশ, প্রকৃতির সবুজের সমারোহে সাঁদা সাদা কাঁশফুলে, শিউলির মন মাতানো সুগন্ধী, রাশি রাশি বাহারি রঙ্গের জবা যেন মা দূর্গার অপরুপ এক সাজ। দুর্গাপূজাকে ঘিরে মণিরামপুরে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। ভক্তদের হৃদয় ছুঁতে শিল্পীদের প্রতিযোগিতা চলছে মণ্ডপে মণ্ডপে। সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে মৃৎ শিল্পীদের ব্যস্ততা।
সরেজমিন দেখা যায়, মণিরামপুরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। এতে ব্যস্ততা বেড়েছে প্রতিমা শিল্পীদের। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে রাত-দিন পরিশ্রম করছেন তারা। কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় গড়ে তোলা হচ্ছে দেবীদুর্গাসহ বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমা। মনের মাধুরী মিশিয়ে মৃৎশিল্পীরা ফুটিয়ে তুলছেন সকল দেবদেবীকে। দেবীদুর্গার প্রতিমা ছাড়াও শিব, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী, অসুরসহ অন্যান্য প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন তারা।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মণিরামপুর উপজেলা শাখার আহবায়ক বিএনপি নেতা সন্তোষ স্বর বলেন, মণিরামপুরে ১০৩টি মন্দিরে এবার দূর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষের পথে, ডেকোরেশন, আলোকসজ্জা, প্যান্ডেল সহ অন্যান্য কাজগুলোও ধীরে ধীরে এগিয়ে চলছে।
আশা করছি এবছর আরও সুন্দরভাবে দুর্গাপুজার উৎসব উদযাপন হবে। আসন্ন শারদীয় উৎসবে মেতে উঠার অপেক্ষায় সনাতন ধর্মালম্বী সম্প্রদায়ের মানুষেরা। সবথেকে জাঁকজমকপূর্ণ দুর্গাপূজা হচ্ছে মশিয়াহাটি, হাজিরহাট, ঢাকুরিয়া ও মোহনপুরে।
যশোর জেলা প্রশাসনের যাচাই-বাছাইয়ে গত কয়েক বছরে সাজসজ্জায় সেরা দুর্গাপূজা হয়েছে মোহনপুর সার্বজনীন কালী ও দুর্গাপূজা মন্দিরে। এবারের পরিস্থিতি জানতে মন্দির কমিটির সাথে কথা বললে সভাপতি দেবাশীষ সরকার বাবু, সাধারণ সম্পাদক মদনমোহন ঘোষ, সহ-সম্পাদক সুকান্ত ঘোষ টপিসহ উপস্থিত সকলে বলেন, আমরা আমাদের এবারের প্রতিমা নিয়ে সারা বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ করছি। সর্বোচ্চমানের মৃৎশিল্পী, সাজসজ্জা এবং আলোকসজ্জায় মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখবে মণিরামপুরসহ দেশবাসী।
এসময়ে যুগ্ম-সম্পাদক সুকান্ত ঘোষ টপি বলেন, ঐতিহ্যবাহী মাগুরার পুজাতে যে লাইটিং দেখতে পায় এবার সেটা আমাদের মোহনপুরে দেখা যাবে। সুদূর কুষ্টিয়া থেকে লাইটিং/আলোকসজ্জা নিয়ে আসছি আমরা।
শাস্ত্রমতে, এবার দেবীদুর্গা ঘোটক(ঘোড়া) চড়ে আগমন করবেন এবং নৌকায় গমন করবেন।
দেবী দুর্গার ঘোড়ায় (ঘোটক) আগমন বা গমনকে “ছত্রভংস্তুরঙ্গমে” বা ছত্রভঙ্গ বলা হয়, যা রাজনৈতিক বা সামরিক অস্থিরতা, যুদ্ধ এবং সামাজিক ও প্রাকৃতিক বিশৃঙ্খলার প্রতীক। তবে, দেবী দুর্গার নৌকায় গমন বা প্রস্থান হলো মর্ত্যলোক ছেড়ে স্বর্গলোকে ফেরার সময় তাঁর বাহন নৌকা হওয়া, যার ফল হিসেবে পৃথিবীতে শস্যবৃদ্ধি ও মনোকামনা পূর্ণ হলেও প্রবল বন্যা বা অতিবৃষ্টির আশঙ্কাও থাকে।
উল্লেখ্য যে, ১৫ অক্টোবর মহা পঞ্চমী, ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর সপ্তমী, ১৯ অক্টোবর অষ্টমী, ২০ অক্টোবর নবমী ও ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্যে দিয়ে এবার ৬ দিনব্যাপী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গা পূজার পরিসমাপ্তি ঘটবে।























