যশোরে এতিম নারীর পৈতৃক সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৭:২২:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৩ বার পঠিত

যশোরে এক এতিম ও অসহায় নারীর পৈতৃক ও দাদার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের চেষ্টা ও ভোগদখলের অভিযোগ উঠেছে শহিদুল ইসলাম গাজীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী রেখা খাতুন জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের আশায় যশোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভুক্তভোগী রেখা খাতুন যশোর সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা গ্রামের মৃত রাসূল ইসলাম গাজীর মেয়ে। তার বাবা রবিউল ইসলাম গাজী নামেও পরিচিত ছিলেন। তার দাদার নাম নজরুল ইসলাম গাজী ওরফে কুরবান গাজী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রেখা খাতুনের বয়স যখন মাত্র চার বছর, তখন তার বাবা মারা যান। পরে তার মা অন্যত্র বিয়ে করে বসবাস শুরু করেন। ফলে ছোটবেলা থেকেই এতিম ও অসহায় অবস্থায় বেড়ে ওঠেন তিনি। তার দাবি, পরবর্তীতে চাচাতো ভাইয়েরা পৈতৃক ও দাদির বাড়ির সূত্রে তার প্রাপ্য অধিকার এবং জমির অংশ বুঝিয়ে দেন।
রেখা খাতুনের দাবি, দাদি ও পিতার সূত্রে পাওয়া ৭৮ নম্বর খোলাডাঙ্গা মৌজার খতিয়ানের জমি তিনি নিজের নামে নামপত্তন (মিউটেশন) করেছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ওই জমির খাজনা-ট্যাক্সও নিয়মিত পরিশোধ করে আসছেন।
তিনি জানান, ৭৮ নম্বর খোলাডাঙ্গা মৌজার ১০১৯ নম্বর খতিয়ানের ১২৪৯, ১২৫৩, ১২৫৪ ও ১২৫৫ নম্বর দাগের জমি মিলিয়ে তিনি মোট ১ দশমিক ৮ শতাংশ, অর্থাৎ ১০৮ পয়েন্ট জমি ওয়ারিশ সূত্রে পেয়েছেন। নিজের নামে নামপত্তনের পর থেকে নিয়মিত ওই জমির সরকারি খাজনা পরিশোধ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে রেখা খাতুনের অভিযোগ, শহিদুল ইসলাম গাজী (পিতা—জুল গাজী) জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে একটি ভুয়া দলিল তৈরি করে ওই সম্পত্তিতে নিজের দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। শহিদুল ইসলাম নিজেকে মৃত রাসূল ইসলাম গাজীর ভাই ও সম্পত্তির অংশীদার দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রেখা খাতুনের দাবি, তার বাবা রাসূল ইসলাম গাজী জীবিত থাকা অবস্থায় কিংবা মৃত্যুর আগে ওই সম্পত্তি অন্য কারও কাছে দলিল বা হস্তান্তর করেননি। এরপরও তার বাবার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে শহিদুল ইসলাম জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া শহিদুল ইসলাম অন্যের জমিও ভোগদখল করে আসছেন বলে অভিযোগ করেছেন রেখা খাতুন। তার দাবি, মৃত রুধির কুমার বিশ্বাস ও তার স্ত্রী শেফালী বিশ্বাসের মালিকানাধীন একটি জমিও শহিদুল ইসলাম ভোগদখল করছেন।
ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, শহিদুল ইসলাম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। তিনি অতীতে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন রেখা খাতুন।
রেখা খাতুন বলেন, তিনি একজন এতিম ও অসহায় নারী। পৈতৃক ও দাদার সূত্রে পাওয়া জমির বৈধ কাগজপত্র ও নামপত্তন থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে তাকে তার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ অবস্থায় জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল তৈরির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জমির রেকর্ডপত্র ও ওয়ারিশানা যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং তার প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রেখা খাতুন। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যশোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে বক্তব্য পাওয়া গেলে যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।























