ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ছাদে সোলার স্থাপনে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার কথা জানালেন প্রতিমন্ত্রী অমিত

যশোরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে কর্মশালা

রোহিত হোসেন রনি
  • আপডেট সময় : ০৮:১৬:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৬ বার পঠিত

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

শনিবার যশোরের ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে ‘From Strategy to Action: Implementing the National RE Development Strategy and National Rooftop Solar Programme’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গ্রিন এনার্জি ট্রানজিশন-পলিসি অ্যাডভাইজরি পার্টনারশিপ (GET-PAP) প্রকল্পের আয়োজনে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

কর্মশালায় যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ এবং জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য দেশের সরকারি-বেসরকারি ভবন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাদে নতুন করে রুফটপ সোলার স্থাপনের সুযোগ কাজে লাগানোর কথা বলেন তিনি।

তিনি জানান, রুফটপ সোলার ব্যবস্থাকে মূলত দুইভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে। প্রথমত, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রয়োজনের জন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করবে। আর নিজেদের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত যে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে, তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। সরকার সেই উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার কথা জানিয়েছে।

অমিত বলেন, এতে একদিকে বিদ্যুতের চাহিদার চাপ কমানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তারা নিজেদের ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, রুফটপ সোলার থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির দিকে এগিয়ে যাওয়া এখন সময়ের দাবি। সরকার আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগ ও রুফটপ সোলার সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কর্মশালায় জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল-২০২৬ বাস্তবায়ন, ২০৩০ সালের লক্ষ্য, বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন, অর্থায়ন ও কার্বন ক্রেডিট, প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা এবং গবেষণা ও উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে নেট মিটারিংয়ের আওতায় রুফটপ সোলার প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ বিভাগের জয়েন্ট সেক্রেটারি ও কো-অর্ডিনেটিং ব্রাঞ্চের কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরাফিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন GIZ বাংলাদেশের এনার্জি ক্লাস্টারের সমন্বয়ক স্টোয়ানকা স্টিচ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব নূর আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশেক হাসান।

কর্মশালায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি এবং নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ট্যাগস :

ছাদে সোলার স্থাপনে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার কথা জানালেন প্রতিমন্ত্রী অমিত

যশোরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে কর্মশালা

আপডেট সময় : ০৮:১৬:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

শনিবার যশোরের ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে ‘From Strategy to Action: Implementing the National RE Development Strategy and National Rooftop Solar Programme’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গ্রিন এনার্জি ট্রানজিশন-পলিসি অ্যাডভাইজরি পার্টনারশিপ (GET-PAP) প্রকল্পের আয়োজনে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

কর্মশালায় যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ এবং জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য দেশের সরকারি-বেসরকারি ভবন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাদে নতুন করে রুফটপ সোলার স্থাপনের সুযোগ কাজে লাগানোর কথা বলেন তিনি।

তিনি জানান, রুফটপ সোলার ব্যবস্থাকে মূলত দুইভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে। প্রথমত, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রয়োজনের জন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করবে। আর নিজেদের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত যে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে, তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। সরকার সেই উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার কথা জানিয়েছে।

অমিত বলেন, এতে একদিকে বিদ্যুতের চাহিদার চাপ কমানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তারা নিজেদের ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, রুফটপ সোলার থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির দিকে এগিয়ে যাওয়া এখন সময়ের দাবি। সরকার আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগ ও রুফটপ সোলার সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কর্মশালায় জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল-২০২৬ বাস্তবায়ন, ২০৩০ সালের লক্ষ্য, বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন, অর্থায়ন ও কার্বন ক্রেডিট, প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা এবং গবেষণা ও উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে নেট মিটারিংয়ের আওতায় রুফটপ সোলার প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ বিভাগের জয়েন্ট সেক্রেটারি ও কো-অর্ডিনেটিং ব্রাঞ্চের কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরাফিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন GIZ বাংলাদেশের এনার্জি ক্লাস্টারের সমন্বয়ক স্টোয়ানকা স্টিচ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব নূর আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশেক হাসান।

কর্মশালায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি এবং নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।