চোখের জলে বিদায়
৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন গণিত শিক্ষক সোহরাব উদ্দিন
- আপডেট সময় : ০২:৫২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫ বার পঠিত

‘সময়টা যদি একটু থেমে যেত! আরও কিছুদিন যদি স্যারকে আমাদের মাঝে পেতাম!’ প্রিয় শিক্ষকের বিদায়বেলায় এমনই আবেগঘন অনুভূতিতে ভারী হয়ে ওঠে যশোরের শার্শা উপজেলার ধান্যখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে যাঁর কাছে গণিতের পাঠ নিয়েছে শিক্ষার্থীরা, যাঁর স্নেহ, শাসন ও আন্তরিকতায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ, সেই প্রিয় শিক্ষক সোহরাব উদ্দিনকে বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১২টায় ধান্যখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের সিনিয়র শিক্ষক সোহরাব উদ্দিনের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বিদায়বেলায় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে সোহরাব উদ্দিন বলেন, আমার শিক্ষকতা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আজ বিদায় নিতে হচ্ছে। শিক্ষকতা জীবনে আমি কখনো স্কুল কামাই করিনি। আমার আত্মীয়স্বজন মারা গেলেও আমি সব সময় স্কুলে এসেছি। তোমরা যারা আছো, সবাই মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করবে। আমি যদি কখনো কোনো অন্যায় করে থাকি, আমাকে ক্ষমা করে দিও।
তাঁর কথায় উঠে আসে দীর্ঘ কর্মজীবনের দায়িত্ববোধ, বিদ্যালয়ের প্রতি নিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর ভালোবাসার চিত্র। দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছে তাঁর এই বিদায় ছিল এক আবেগঘন মুহূর্ত। একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিদের মনে নাড়া দেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন শার্শা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম শাখির উদ্দিন।
ধান্যখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সাহেব আলী।
এ সময় বাহাদুরপুর ইউনিয়নের চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য নুরুল ইসলাম, বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, শার্শা উপজেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক মিয়াদ আলী, সহসভাপতি সাফা উদ্দিন খাঁ, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক লুৎফর রহমানসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিদায়ী শিক্ষকের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
একজন শিক্ষকের বিদায় মানে শুধু একটি কর্মজীবনের সমাপ্তি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য স্মৃতি, হাজারো শিক্ষার্থীর ভালোবাসা আর দীর্ঘ পথচলার গল্প। হয়তো আর প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে শোনা যাবে না সোহরাব স্যারের পরিচিত কণ্ঠ। গণিতের কঠিন অঙ্ক সহজ করে বুঝিয়ে দেওয়ার সেই আন্তরিকতাও আর আগের মতো পাওয়া যাবে না। তবে তাঁর হাতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে তিনি বেঁচে থাকবেন শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অগণিত স্মৃতির মাঝে।























