ঢাকা ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক হাতেই সংসারের হাল ধরেছেন কেশবপুরের কল্লোল

তুহিন হোসেন, কেশবপুর
  • আপডেট সময় : ১০:১০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩২ বার পঠিত

ডান হাত নেই, তবু থেমে নেই জীবনসংগ্রাম। এক হাতেই বেকারির পণ্য নিয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ান কল্লোল কুমার দাস (৪৪)। ভিক্ষা নয়, নিজের শ্রমে উপার্জন করে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে বেঁচে থাকার এই লড়াইয়ে প্রতিদিনই নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করছেন যশোরের কেশবপুরের এই মানুষটি।

কল্লোল কুমার দাস কেশবপুর সদর ইউনিয়নের মাগুরাডাঙ্গা গ্রামের স্বপন কুমার দাসের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের দায়িত্ব মূলত তাঁর কাঁধেই। তাই প্রতিদিন বেকারির পণ্য নিয়ে বেরিয়ে পড়েন জীবিকার সন্ধানে। ত্রিমোহিনী, সাতবাড়িয়া, মূলগ্রাম, বাইশাসহ কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে পণ্য বিক্রি করেন তিনি।

জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে কেশবপুরের মধ্যকুল পাম্প এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় ডান হাত হারান কল্লোল। মুহূর্তেই বদলে যায় তাঁর জীবন। নেমে আসে অনিশ্চয়তা। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা এবং পরিবারের দায়িত্ব পালন নিয়ে তৈরি হয় নতুন চ্যালেঞ্জ। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কাছে হার মানেননি তিনি।

আগের মতো কাজ করার সক্ষমতা নেই, কমেছে উপার্জনের সুযোগও। তবু থেমে থাকেননি কল্লোল। জীবিকার তাগিদে এক হাতেই শুরু করেন বেকারির পণ্য বিক্রির কাজ। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রতিদিন ছুটে চলেন এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায়। দিন শেষে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনো রকমে চলে তাঁর সংসার। কল্লোলের জীবনসংগ্রাম শুধু দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই নয়, এটি আত্মমর্যাদা ও আত্মনির্ভরতারও গল্প। শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তিনি কারও কাছে হাত না পেতে নিজের শ্রমে বেঁচে থাকার পথ বেছে নিয়েছেন।

কল্লোল কুমার দাস বলেন, দুর্ঘটনায় এক হাত হারিয়েছি, কিন্তু কাজ করার শক্তি ও ইচ্ছা হারাইনি। ভিক্ষা করতে চাই না। নিজের পরিশ্রমে উপার্জন করে পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে চাই।

এক হাতেই প্রতিদিনের এই পথচলা কল্লোলের অদম্য মনোবলের পরিচয় বহন করে। প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর তাঁর এই প্রচেষ্টা সমাজের অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত।

ট্যাগস :

এক হাতেই সংসারের হাল ধরেছেন কেশবপুরের কল্লোল

আপডেট সময় : ১০:১০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

ডান হাত নেই, তবু থেমে নেই জীবনসংগ্রাম। এক হাতেই বেকারির পণ্য নিয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ান কল্লোল কুমার দাস (৪৪)। ভিক্ষা নয়, নিজের শ্রমে উপার্জন করে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে বেঁচে থাকার এই লড়াইয়ে প্রতিদিনই নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করছেন যশোরের কেশবপুরের এই মানুষটি।

কল্লোল কুমার দাস কেশবপুর সদর ইউনিয়নের মাগুরাডাঙ্গা গ্রামের স্বপন কুমার দাসের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের দায়িত্ব মূলত তাঁর কাঁধেই। তাই প্রতিদিন বেকারির পণ্য নিয়ে বেরিয়ে পড়েন জীবিকার সন্ধানে। ত্রিমোহিনী, সাতবাড়িয়া, মূলগ্রাম, বাইশাসহ কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে পণ্য বিক্রি করেন তিনি।

জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে কেশবপুরের মধ্যকুল পাম্প এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় ডান হাত হারান কল্লোল। মুহূর্তেই বদলে যায় তাঁর জীবন। নেমে আসে অনিশ্চয়তা। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা এবং পরিবারের দায়িত্ব পালন নিয়ে তৈরি হয় নতুন চ্যালেঞ্জ। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কাছে হার মানেননি তিনি।

আগের মতো কাজ করার সক্ষমতা নেই, কমেছে উপার্জনের সুযোগও। তবু থেমে থাকেননি কল্লোল। জীবিকার তাগিদে এক হাতেই শুরু করেন বেকারির পণ্য বিক্রির কাজ। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রতিদিন ছুটে চলেন এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায়। দিন শেষে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনো রকমে চলে তাঁর সংসার। কল্লোলের জীবনসংগ্রাম শুধু দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই নয়, এটি আত্মমর্যাদা ও আত্মনির্ভরতারও গল্প। শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তিনি কারও কাছে হাত না পেতে নিজের শ্রমে বেঁচে থাকার পথ বেছে নিয়েছেন।

কল্লোল কুমার দাস বলেন, দুর্ঘটনায় এক হাত হারিয়েছি, কিন্তু কাজ করার শক্তি ও ইচ্ছা হারাইনি। ভিক্ষা করতে চাই না। নিজের পরিশ্রমে উপার্জন করে পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে চাই।

এক হাতেই প্রতিদিনের এই পথচলা কল্লোলের অদম্য মনোবলের পরিচয় বহন করে। প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর তাঁর এই প্রচেষ্টা সমাজের অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত।