ঝিকরগাছায় অনলাইন ক্যাসিনোতে আসক্ত বহুপরিবার
- আপডেট সময় : ১১:৩৩:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / ৩৪ বার পঠিত

আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির অপরাধ জগতের কেন্দ্রবিন্দু যশোরের ঝিকরগাছা! এমনই এক চাঞ্চল্যকর ও অবিশ্বাস্য তথ্য সামনে চলে এসেছে। তথ্যসূত্রের দাবি, দেশের ভিতরে বাইরে তথ্যপ্রযুক্তির অপরাধ জগতের বিভিন্ন শাখায় কাজ করছে সঙ্ঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্র। যার প্রধান মোবাইল নেটওয়ার্কিং সদর দপ্তর হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা সদর থেকে। চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ এমনই একটি তথ্য মিলেছে।
অভিযোগে জানা গেছে, এই প্রতারক চক্রটি অনলাইন মোবাইল গেমিং ক্যাসিনো ছাড়াও ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডার জাল পাসপোর্ট, ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডি তৈরি করে প্রতারণার জাল বিস্তার করে চলেছে। যার পুরো নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থার প্রধান সদর দপ্তর হিসেবে যশোরের ঝিকরগাছা পৌরশহর থেকে যাবতীয় কার্যক্রম মোবাইল নেটওয়ার্কিং এর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। প্রবাসে বসে অনেকে সে দেশের স্থায়ী নাগরিকত্ব পাওয়ার পাশাপাশি সব ধরনের বৈধ কাগজপত্রের আড়ালে জাল ও ভুয়া যাবতীয় কাগজপত্র তৈরি করতে সিদ্ধহস্তের মতো কাজ করে চলেছে সঙ্ঘবদ্ধ এই প্রতারক চক্রটি।
বিনিময়ে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। ঐ প্রতারক চক্রের একজন মাস্টারমাইন্ড যুবকের হঠাৎ করে দামি গাড়িতে চড়ে বিলাসী জীবনযাপন করার মধ্যে দিয়ে প্রতারক চক্রের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে চলে এসেছে। তবে চাঞ্চল্যকর এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা জুড়ে স্মার্টফোনে অনলাইন ক্যাসিনোতে(জুয়া) আসক্ত হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে বহু পরিবার। সর্বনাশা এই খেলায় দিনমজুর, ক্ষুদ্র, মাঝারি ব্যবসায়ী, পেশাজীবীসহ ছাত্র-যুবকেরা আসক্ত হয়ে বিপথগামী ও সর্বস্বান্ত হচ্ছে।
”কোটিপতি বাবার সব সম্পদ হারিয়ে পথে বসেছে আদরের সন্তান”-এমন আরো ভয়ংকর তথ্য মিলছে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা জুড়ে। অনেকের ধারণা ‘গেমখেলা’র নামে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় একটি সঙ্ঘবদ্ধ প্রতারকচক্র প্রতারণার সর্বনাশা এই ফাঁদ তৈরি করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে গেমিং পদ্ধতির সর্বনাশা এই জুয়া খেলায় সাময়িক যৎসামান্য লাভের বিপরীতে লাখ লাখ টাকার সর্বনাশ অবধারিত!
জানাগেছে, অ্যান্ড্রয়েড ফোনের নেটওয়ার্কিং বিভিন্ন অ্যাপস এর মাধ্যমে গেমিং-প্ল্যানিং কোড-এ প্রবেশ করে শুরু হয় এই সর্বনাশা খেলা। কোনো কোনো অ্যাপস এর খেলায় অতিঅল্প সময়ের মধ্যে খোয়া যেতে পারে লাখ লাখ টাকা! প্রতারণার ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হওয়া একজন ভুক্তভোগী জানান, ‘এ এমন এক ভয়ংকর আসক্তি-যেন ফেরার আর পথ নেই’! স্ত্রী, সন্তান, সংসার, পরিবার-পরিজন কারো ভালো মন্দের দিকে যেন খেয়াল করার ফুসরত নেই! ঝিকরগাছা বাজারের একসময়ের প্রতিষ্ঠিত একাধিক ব্যবসায়ী মোটা অংকের লাভের আশায় পুঁজিবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করে কারসাজিতে ধস নামায় দফায় দফায় ধরা খেয়েছেন!
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের একসময়ের বহুলালোচিত ‘কাজলের হুন্ডি ব্যবসায় বিনিয়োগ নিয়োগ করে লাখ লাখ টাকা প্রতারিত ও নিঃস্ব হওয়ার পর এবার সামনে চলে আসতে শুরু করেছে মোবাইল গেমিং অনলাইন ক্যাসিনো বা জুয়াখেলার ভয়ংকর তথ্য। কাজলের হুন্ডিব্যবসায় অর্থলগ্নি করে প্রতারিত হয়ে এই জনপদের বহু পরিবারের পথে বসার খবর প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। এবার সামনে এসেছে সর্বনাশা অনলাইন জুয়া খেলার ভয়ংকর তথ্য।
খবর মিলেছে, মধ্যবিত্ত সচ্ছল পরিবারের মধ্যবয়সি একজন হোমিও চিকিৎসক অনলাইন জুয়ার খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। চিকিৎসায় তার হাতযশ ছিলো খুব ভালো। আয়-রোজগারের কমতি ছিলনা। এক নামে সবাই চিনতো তাকে। বাবার পৈত্রিক সম্পত্তির অংশ আর নিজের উপার্জিত বিপুল অর্থ খুইয়েছেন অনলাইন জুয়াই আসক্ত হয়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই হোমিও চিকিৎসক বলেন, কত টাকা শেষ করেছি তা আমি নিজেও জানিনা। সহায় সম্পদ হারিয়ে নিজের দাম্পত্য কলহ ও পারিবারিক অশান্তির তিক্ত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, এ এক ভয়ংকর আসক্তি। লোভের জালে কেউ একবার জড়িয়ে পড়লে নিঃস্ব হওয়া ছাড়া ফেরার আর কোন পথ নেই। একসময়ের আলোচিত মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি ও ইউনিপে টু ইউ’র অনলাইন ব্যবসার নামে প্রতারণার ফাঁদের অনলাইন প্লাটফর্মের নতুন ভার্সন হলো এই অনলাইন গেমিং।
ইতিপূর্বে ঝিকরগাছায় মেধাবী শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনের ফ্রী ফায়ারিং গেমিং খেলায় আসক্ত হয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এই খেলার আসক্তিতে হাবুডুবু খাচ্ছে দিনমজুর, ভ্যান-রিক্সাচালকসহ কর্মজীবীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। একসময় যে ছিলো কর্মচঞ্চল, সেই কর্মজীবী তরুণযুবক সর্বনাশা এই খেলায় আসক্ত হয়ে দিনেদিনে হয়ে পড়ছে কর্মবিমুখ-অলস। কর্মহীন হয়ে আয় রোজগারে ভাটা পড়ায় পরিবারের জ্বলছে অশান্তির আগুন! বাড়ছে পারিবারিক কলহ ও বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছেদের হুমকি।
অভিযোগ উঠেছে, অনেক পরিবারের বাবা-মা তাদের সন্তানদের হাতে তুলে দেয়া ব্যবসায়ী বিনিয়োগের লাখ লাখ টাকার হিসাব মিলছে না। এক সময় দোকান ভর্তি যে মালামাল ছিল এখন তা প্রায় শূন্যের কোটায়। ঘর ভাড়া, কর্মচারীর বেতন, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া উপরন্তু- মহাজনি দায়দেনা! পরিবারের লোকদের হিসাব দিতে পারছে না। একসময় আসল সত্যটি সামনে এলো। আর তা হলো, পর্যায়ক্রমে সব টাকা উধাও হয়েছে অনলাইন জুয়ায়!
সর্বনাশা এ পথে পা বাড়িয়েছে ছাত্র-যুবক,কুলি মজুর থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোর কর্মচারী ও ফুটপাতের ফুচকাওয়ালা ও চা’দোকানী পর্যন্ত। শ্রমিক শ্রেণির ভুক্তভোগী একাধিক পরিবারের নারী সদস্যদের অভিযোগ, সারাদিনে যা আয়রোজগার করে তা দিয়ে মোবাইলে এমবি ভরে। কাজকর্ম বাদ দিয়ে ফোনে গেমখেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ফলে, ঠিকমতো হাড়ি চুলোই ওঠে না!
আমাদের তথ্যানুসন্ধান ও ভুক্তভোগীদের মতে, উদ্বেগজনক এমন খবর চাউর হলেও অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা রোধে নেই কোন প্রযুক্তিগত কার্যকর ব্যবস্থা! সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এখনই কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে দেশের বিপুল বেশুমার অর্থ তথ্য প্রযুক্তির সর্বনাশা এই ক্যাসিনোজুয়ার মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়ার পাশাপাশি জনজীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে ।
ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া হাসান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির অপরাধ বিষয়ে আমাদের জেলা সাইবার ইউনিট কাজ করে যাচ্ছেন। উপযুক্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা করা ও সাজা-শাস্তির বিধি-বিধান তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিভিন্ন ধারায় উল্লেখ রয়েছে। আমরা অভিযোগ পেলে অভিযুক্তকে শনাক্তপূর্বক আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।





















