ঢাকা ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

যশোরে হাসপাতালের কর্মচারীর বিরুদ্ধে নারী রোগীকে ব্ল্যাকমেইল ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৩ বার পঠিত

যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক বয়োবৃদ্ধা নারী রোগীকে গোপনে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের বহির্বিভাগের হেল্প ডেস্কে কর্মরত আলমগীর হোসেন নামে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও বিচার চেয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

লিখিত অভিযোগে ওই নারী উল্লেখ করেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে যাতায়াতের সূত্রে বহির্বিভাগের ১২২/১৩৩ নম্বর কক্ষের সামনে হেল্প ডেস্কে কর্মরত আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। টিকিট কেটে দেওয়া, চিকিৎসক দেখানো ও ওষুধের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে আলমগীর তাঁর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একদিন হাসপাতালে ওষুধ নিতে গেলে আলমগীর তাঁকে জানান, প্রয়োজনীয় ওষুধ তাঁর বাসায় রয়েছে। পরে তাঁকে মোটরসাইকেলে করে যশোর শহরের বারান্দীপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর সঙ্গে অনৈতিক আচরণের পাশাপাশি গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে তাঁকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল এবং অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। তাঁর দাবি, হাসপাতালের বহির্বিভাগের দন্ত বিভাগের ১১৯ নম্বর কক্ষেও তাঁকে একাধিকবার অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে কৌশলে আলমগীরের মোবাইল ফোন থেকে একটি ভিডিও সংগ্রহ করেন ভুক্তভোগী। সম্প্রতি সামনে আসা ওই ভিডিওতে আলমগীরকে এক নারীর হাত ধরে একটি কক্ষে প্রবেশ করতে এবং সেখানে গোপনে মোবাইল ফোন সেট করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে আলমগীর হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি নিজের অন্যায়ের কথা স্বীকার করে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, আমি অন্যায় করেছি। ভিডিও প্রকাশিত হওয়ায় আমিও লজ্জিত। আমি হাত জোর করে মাফ চাচ্ছি, আমাকে ক্ষমা করে দিন।

এদিকে, ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়েত বলেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হাসপাতালে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষী কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

যশোরে হাসপাতালের কর্মচারীর বিরুদ্ধে নারী রোগীকে ব্ল্যাকমেইল ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক বয়োবৃদ্ধা নারী রোগীকে গোপনে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের বহির্বিভাগের হেল্প ডেস্কে কর্মরত আলমগীর হোসেন নামে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও বিচার চেয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

লিখিত অভিযোগে ওই নারী উল্লেখ করেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে যাতায়াতের সূত্রে বহির্বিভাগের ১২২/১৩৩ নম্বর কক্ষের সামনে হেল্প ডেস্কে কর্মরত আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। টিকিট কেটে দেওয়া, চিকিৎসক দেখানো ও ওষুধের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে আলমগীর তাঁর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একদিন হাসপাতালে ওষুধ নিতে গেলে আলমগীর তাঁকে জানান, প্রয়োজনীয় ওষুধ তাঁর বাসায় রয়েছে। পরে তাঁকে মোটরসাইকেলে করে যশোর শহরের বারান্দীপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর সঙ্গে অনৈতিক আচরণের পাশাপাশি গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে তাঁকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল এবং অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। তাঁর দাবি, হাসপাতালের বহির্বিভাগের দন্ত বিভাগের ১১৯ নম্বর কক্ষেও তাঁকে একাধিকবার অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে কৌশলে আলমগীরের মোবাইল ফোন থেকে একটি ভিডিও সংগ্রহ করেন ভুক্তভোগী। সম্প্রতি সামনে আসা ওই ভিডিওতে আলমগীরকে এক নারীর হাত ধরে একটি কক্ষে প্রবেশ করতে এবং সেখানে গোপনে মোবাইল ফোন সেট করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে আলমগীর হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি নিজের অন্যায়ের কথা স্বীকার করে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, আমি অন্যায় করেছি। ভিডিও প্রকাশিত হওয়ায় আমিও লজ্জিত। আমি হাত জোর করে মাফ চাচ্ছি, আমাকে ক্ষমা করে দিন।

এদিকে, ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়েত বলেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হাসপাতালে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষী কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।