বাঘারপাড়ায় সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৭:৫৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / ৪৭ বার পঠিত

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রাম ইউনিয়নে মাকিনদাহ গ্রামে এক সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে লুটপাট, আদালতের মামলার রায়ের মূল কপি, জমির মূল দলিল ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় ওই পরিবারের ছেলে সবুজ বিশ্বাস (২৫)-কে চুরির অপরাধে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তার বাবা-মা।
ভুক্তভোগী মনি মোহন বিশ্বাসের অভিযোগ, প্রতিবেশী কার্তিক, সুমন ও রামপ্রসাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে। ওই মামলায় রায় তাদের পক্ষে এসেছে। কিন্তু জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
মনি মোহন বিশ্বাস জানান, তিনি প্রতিদিন মাছ ধরার কাজে বামনহাটে যান। সেখানে জমি ক্রয় করা আছে বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা থাকায় তার স্ত্রীও তার সঙ্গে ছিলেন। গত ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বাড়িতে একা ছিল ছেলে সবুজ। এ সুযোগে প্রতিবেশীরা তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে চুরির অপবাদ দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাড়িতে থাকা আদালতের মামলার রায়ের মূল কপি, জমিজমার সব মূল দলিল এবং মাছ ধরার জাল বিক্রির জন্য রাখা ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও টাকা ফিরে পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
মনি মোহনের স্ত্রী উন্নতি বিশ্বাস বলেন, কার্তিকের সঙ্গে জমি নিয়ে প্রায় ৩০ বছর ধরে আদালতে মামলা চলছে। মামলার রায়ও তাদের পক্ষে হয়েছে। কিন্তু জমি নিয়ে বিরোধের অবসান হয়নি। স্বামী-স্ত্রী বাড়িতে না থাকার সুযোগে ছেলেকে একা পেয়ে এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, ১ নভেম্বর মাকিদাহ এলাকা থেকে চুরির অপরাধে একজনকে আটক করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ আসে। পরে সবুজ বিশ্বাসকে আটক করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নম্বর-০৫ মূলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে কোনো বাড়িতে লুটপাট কিংবা দলিল ও টাকা নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় লোকজন বলেন, দুই পরিবাবের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে জমিজায়গা নিয়ে আদলতে মামলা চলমান রয়েছে স্থানীয় ভাবে বহু শালীস বিচার হয়েছে সমাধান করার সুযোগ হয়নি ।
ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তাদের ছেলেকে হয়রানি করা হচ্ছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, লুট হওয়া কাগজপত্র ও টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি সবুজ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

























