ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo উন্নয়ন ও জনসেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে মাহবুর রহমান মালেক Logo ঝিকরগাছায় দৈনিক রানারের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত Logo নদীভাঙনে বিলীন দোকানপাট ও গুদামঘর, ১৬ ব্যবসায়ীকে প্রণোদনা Logo ডুমুরিয়ায় বরফ কল দেখিয়ে সারের ডিলার নিয়োগ! Logo সংস্কারের অভাবে বেহাল সৌম্য-মোস্তাফিজের স্মৃতিবিজড়িত মাঠ Logo মনিরামপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে কামরুজ্জামানকে কুপিয়ে জখম Logo ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন গণিত শিক্ষক সোহরাব উদ্দিন Logo রাইস ট্রান্সপ্লান্টারে আধুনিক ধান চাষ: ডুমুরিয়ায় মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত Logo কেশবপুরে দরিদ্র নারী, অভিভাবক ও কিশোরীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ Logo টাকা চুরির অপবাদে সাজমীর হত্যা: এজাহারভুক্ত দুই আসামি গ্রেপ্তার
প্রস্তুতি না নিলে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি

দর্পণ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / ৫২ বার পঠিত

ফিলিপাইন ও আশপাশের অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশেও বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভূতত্ত্ববিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, দেশের বিভিন্ন সক্রিয় ভূ-ফাটলে দীর্ঘদিন ধরে শক্তি সঞ্চিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ এমন একটি ভূ-তাত্ত্বিক অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে ৮ মাত্রার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে ডাউকি ফল্টসহ বিভিন্ন সক্রিয় ভূ-চ্যুতি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা শক্তি বড় ধরনের কম্পনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অবজারভেটরির সাবেক পরিচালক ও বিশিষ্ট ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানিয়েছেন, সিলেট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত পাহাড়ি অঞ্চলের নিচে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত রয়েছে। ওই এলাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে বাংলাদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

তার গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকায় মাত্র ১ শতাংশ ভবন ধসে পড়লেও প্রায় ৬ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং প্রায় ৩ লাখ মানুষ হতাহত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এদিকে ২০০৯ সালে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও কমপ্রিহেনসিভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের (সিডিএমপি) যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছিল, ঢাকায় ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে। এছাড়া আরও এক লাখের বেশি ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জাতীয় বিল্ডিং কোড যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, দুর্বল নির্মাণমান এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির ঘাটতি দেশের ভূমিকম্প ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, রাজধানী ঢাকার মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ ভবনকে ভূমিকম্প-সহনশীল হিসেবে বিবেচনা করা যায়। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত শনাক্ত করে ধাপে ধাপে শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ভবনগুলোকে ভূমিকম্প-সহনশীল করে গড়ে তুলতে পারলে সম্ভাব্য প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; নিয়মিত মহড়া, উদ্ধার কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আধুনিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভূমিকম্প বিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তাদের মতে, ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও সময়োপযোগী পরিকল্পনা, নিরাপদ অবকাঠামো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

ট্যাগস :

প্রস্তুতি না নিলে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি

আপডেট সময় : ০৭:৪৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

ফিলিপাইন ও আশপাশের অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশেও বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভূতত্ত্ববিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, দেশের বিভিন্ন সক্রিয় ভূ-ফাটলে দীর্ঘদিন ধরে শক্তি সঞ্চিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ এমন একটি ভূ-তাত্ত্বিক অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে ৮ মাত্রার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে ডাউকি ফল্টসহ বিভিন্ন সক্রিয় ভূ-চ্যুতি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা শক্তি বড় ধরনের কম্পনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অবজারভেটরির সাবেক পরিচালক ও বিশিষ্ট ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানিয়েছেন, সিলেট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত পাহাড়ি অঞ্চলের নিচে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত রয়েছে। ওই এলাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে বাংলাদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

তার গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকায় মাত্র ১ শতাংশ ভবন ধসে পড়লেও প্রায় ৬ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং প্রায় ৩ লাখ মানুষ হতাহত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এদিকে ২০০৯ সালে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও কমপ্রিহেনসিভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের (সিডিএমপি) যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছিল, ঢাকায় ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে। এছাড়া আরও এক লাখের বেশি ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জাতীয় বিল্ডিং কোড যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, দুর্বল নির্মাণমান এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির ঘাটতি দেশের ভূমিকম্প ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, রাজধানী ঢাকার মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ ভবনকে ভূমিকম্প-সহনশীল হিসেবে বিবেচনা করা যায়। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত শনাক্ত করে ধাপে ধাপে শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ভবনগুলোকে ভূমিকম্প-সহনশীল করে গড়ে তুলতে পারলে সম্ভাব্য প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; নিয়মিত মহড়া, উদ্ধার কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আধুনিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভূমিকম্প বিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তাদের মতে, ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও সময়োপযোগী পরিকল্পনা, নিরাপদ অবকাঠামো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।