
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা ব্যানার্জী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে তার দলকে দুর্বল ও বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি রাজ্যে ধর্মীয় মেরুকরণ, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং বিরোধী দলের কর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও তোলেন তিনি।
কলকাতার কালিঘাটে নিজ বাসভবন থেকে দেওয়া বক্তব্যে মমতা বলেন, “এখানে মুসলিমরা অত্যাচারিত হচ্ছে, অনেক হিন্দুও এদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না, তারাও অত্যাচারিত।”
কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বিজেপি সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “শুধু মুসলিমদের উৎসবকে কেন্দ্র করে গরুর দুধের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মানুষদেরও সমস্যার মুখে ফেলা হয়েছে। গ্রামবাংলার হাজার হাজার পরিবার গবাদিপশু ও দুগ্ধ উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। তাদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে তৃণমূল নেত্রী দাবি করেন, তাদের প্রায় আড়াই হাজার দলীয় কার্যালয় ভেঙে ফেলা হয়েছে। অনেক মন্দিরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, ঈদগাহ দখল করা হয়েছে এবং মিশনারি সংগঠনগুলোর তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের ভয়ভীতি ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে উল্লেখ করে মমতা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গকেই কেন বেছে নেওয়া হচ্ছে? কাউন্টিং সেন্টারের ভেতরেও কারচুপির ঘটনা ঘটেছে। এসআইআরের নাম করে আমাকে মারতে মারতে কাউন্টিং সেন্টার থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, অথচ তখন আমি ১৩ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলাম।”
নিজের ভাতিজা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী’র ওপর হামলার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। মমতা দাবি করেন, “অভিষেকের ওপর যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে তা নজিরবিহীন। যারা তাকে রক্ষা করতে গিয়েছিল, পুলিশ তাদেরই গ্রেফতার করেছে। হামলাকারীদের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের ছবিও রয়েছে। মাথায় হেলমেট না থাকলে ঘটনাস্থলেই অভিষেকের মৃত্যু হতে পারত।”
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা ও অস্থিরতার কারণে রাজ্যের ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এ পরিস্থিতি নিয়ে দেশের বিভিন্ন মহলে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে আগামী মঙ্গলবার (২ জুন) কলকাতার রাণী রাসমনি সড়কে তৃণমূল কংগ্রেসের ঘোষিত মহাধরনা কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে মমতা বলেন, “আমাকে যদি মঞ্চ বানাতে না দেওয়া হয়, তাহলে আমি রাস্তার ওপর বসেই আন্দোলন করব।”
বিজেপির বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

























