ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিবার হারানো সিফাতের দায়িত্ব নিল জামায়াত

দর্পণ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ১০:০২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • / ৪২ বার পঠিত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আলোচিত মা ও তিন মেয়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনায়েদ ইসলাম সিফাতের খোঁজখবর নিয়েছে জেলা জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে সংগঠনের পক্ষ থেকে সিফাতের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা এবং তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় নিহত পরিবারের বাসায় গিয়ে জেলা জামায়াতের আমীর মাষ্টার রুহুল আমীন ভূঁইয়া সিফাতের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার সার্বিক খোঁজখবর নেন। পরে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মুনাজাতে অংশ নেন দলের নেতারা।

এ সময় মাষ্টার রুহুল আমীন ভূঁইয়া বলেন, নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য সিফাতের দায়িত্ব জেলা জামায়াত গ্রহণ করবে। তার লেখাপড়াসহ প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার বহনের বিষয়েও জেলা নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সিফাত জানিয়েছেন তিনি রায়পুরেই থাকতে চান। যদিও তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়, তবে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা রায়পুরে। তিনি যেন পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে সর্বোচ্চ শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন, সে বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে।

হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গে জেলা জামায়াতের আমীর বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে হবে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এ সময় জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর মনির আহমেদ, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আব্দুল আউয়াল রাছেল, পৌর জামায়াতের আমীর হাফেজ ফজুল করিম, নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দীন, সেক্রেটারি আশরাফুল ইসলাম রাকিব, পৌর ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর মামুনসহ উপজেলা ও পৌর জামায়াতের অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি বাসায় শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে সিফা আক্তারকে (৯) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পালিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজন ঘাতক অন্তর মজুমদার জনতার গণপিটুনিতে নিহত হন।

নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনায়েদ ইসলাম সিফাত শুরু থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আসছেন। ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাবাকে হারানোর পর ২০২৬ সালে মা ও তিন বোনকে হারিয়ে সিফাত সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

পরিবার হারানো সিফাতের দায়িত্ব নিল জামায়াত

আপডেট সময় : ১০:০২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আলোচিত মা ও তিন মেয়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনায়েদ ইসলাম সিফাতের খোঁজখবর নিয়েছে জেলা জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে সংগঠনের পক্ষ থেকে সিফাতের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা এবং তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় নিহত পরিবারের বাসায় গিয়ে জেলা জামায়াতের আমীর মাষ্টার রুহুল আমীন ভূঁইয়া সিফাতের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার সার্বিক খোঁজখবর নেন। পরে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মুনাজাতে অংশ নেন দলের নেতারা।

এ সময় মাষ্টার রুহুল আমীন ভূঁইয়া বলেন, নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য সিফাতের দায়িত্ব জেলা জামায়াত গ্রহণ করবে। তার লেখাপড়াসহ প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার বহনের বিষয়েও জেলা নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সিফাত জানিয়েছেন তিনি রায়পুরেই থাকতে চান। যদিও তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়, তবে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা রায়পুরে। তিনি যেন পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে সর্বোচ্চ শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন, সে বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে।

হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গে জেলা জামায়াতের আমীর বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে হবে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এ সময় জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর মনির আহমেদ, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আব্দুল আউয়াল রাছেল, পৌর জামায়াতের আমীর হাফেজ ফজুল করিম, নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দীন, সেক্রেটারি আশরাফুল ইসলাম রাকিব, পৌর ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর মামুনসহ উপজেলা ও পৌর জামায়াতের অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি বাসায় শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে সিফা আক্তারকে (৯) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পালিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজন ঘাতক অন্তর মজুমদার জনতার গণপিটুনিতে নিহত হন।

নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনায়েদ ইসলাম সিফাত শুরু থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আসছেন। ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাবাকে হারানোর পর ২০২৬ সালে মা ও তিন বোনকে হারিয়ে সিফাত সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।