ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ডুমুরিয়ায় বরফ কল দেখিয়ে সারের ডিলার নিয়োগ! Logo সংস্কারের অভাবে বেহাল সৌম্য-মোস্তাফিজের স্মৃতিবিজড়িত মাঠ Logo মনিরামপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে কামরুজ্জামানকে কুপিয়ে জখম Logo ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন গণিত শিক্ষক সোহরাব উদ্দিন Logo রাইস ট্রান্সপ্লান্টারে আধুনিক ধান চাষ: ডুমুরিয়ায় মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত Logo কেশবপুরে দরিদ্র নারী, অভিভাবক ও কিশোরীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ Logo টাকা চুরির অপবাদে সাজমীর হত্যা: এজাহারভুক্ত দুই আসামি গ্রেপ্তার Logo খুলনায় ফখরুল হত্যা মামলার আসামি আব্দুর রহমান গ্রেপ্তার Logo দুর্গাপূজার ছুটিতে টানা ৮ দিন বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ Logo প্রেসক্লাব যশোরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তৌহিদুর রহমানের স্মরণসভা
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে চাঞ্চল্য

সৌহার্দ্য ট্র্যাজেডির স্মৃতি না মুছতেই আবারও পদ্মায় বাসডুবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • / ৪৭ বার পঠিত

আড়াইমাস আগের সৌহার্দ্য ট্রাজেডির রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও  রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে বাসের সব যাত্রী আগে থেকেই নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ঘাটে পৌঁছালে ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর চালক ও তার সহকারী বাসটি ফেরিতে ওঠানোর সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশে থাকা একটি ফেরির র‍্যাম্পে আঘাত করে। এতে র‍্যাম্প ভেঙে বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের দৌলতদিয়া ঘাট তত্ত্বাবধায়ক বারেক শেখ জানান, বাসটিতে ৩৭ জন যাত্রী ছিলেন। এছাড়া চালক, সহকারী ও তত্ত্বাবধায়কসহ মোট প্রায় ৪০ জন ছিলেন। তবে ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ায় বাসে কেবল চালক ও তার সহকারী অবস্থান করছিলেন।

বাসের যাত্রী আল জুবায়ের বলেন, “ঘাটে পৌঁছানোর পর আমাদের সবাইকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর চালক ও সহকারী বাসটি ফেরিতে তোলার চেষ্টা করলে হঠাৎ সেটি ডান দিকে বেঁকে গিয়ে নদীতে পড়ে যায়।”

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাদের গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুনের র‍্যাম্প ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা নিখোঁজের খবর পাওয়া যায়নি।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। বেলা পৌনে ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদী থেকে বাসটি উদ্ধার করে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জন যাত্রী প্রাণ হারান। মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে একই ঘাট এলাকায় আবারও বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ট্যাগস :

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে চাঞ্চল্য

সৌহার্দ্য ট্র্যাজেডির স্মৃতি না মুছতেই আবারও পদ্মায় বাসডুবি

আপডেট সময় : ০১:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

আড়াইমাস আগের সৌহার্দ্য ট্রাজেডির রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও  রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে বাসের সব যাত্রী আগে থেকেই নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ঘাটে পৌঁছালে ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর চালক ও তার সহকারী বাসটি ফেরিতে ওঠানোর সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশে থাকা একটি ফেরির র‍্যাম্পে আঘাত করে। এতে র‍্যাম্প ভেঙে বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের দৌলতদিয়া ঘাট তত্ত্বাবধায়ক বারেক শেখ জানান, বাসটিতে ৩৭ জন যাত্রী ছিলেন। এছাড়া চালক, সহকারী ও তত্ত্বাবধায়কসহ মোট প্রায় ৪০ জন ছিলেন। তবে ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ায় বাসে কেবল চালক ও তার সহকারী অবস্থান করছিলেন।

বাসের যাত্রী আল জুবায়ের বলেন, “ঘাটে পৌঁছানোর পর আমাদের সবাইকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর চালক ও সহকারী বাসটি ফেরিতে তোলার চেষ্টা করলে হঠাৎ সেটি ডান দিকে বেঁকে গিয়ে নদীতে পড়ে যায়।”

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাদের গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুনের র‍্যাম্প ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা নিখোঁজের খবর পাওয়া যায়নি।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। বেলা পৌনে ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদী থেকে বাসটি উদ্ধার করে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জন যাত্রী প্রাণ হারান। মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে একই ঘাট এলাকায় আবারও বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।