পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা নাসিমকে গুলি করে হত্যা
- আপডেট সময় : ০৬:২০:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ৮ বার পঠিত

খুলনার দিঘলিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-জনযুদ্ধ) আঞ্চলিক নেতা নাসিমুল গণি করিম ওরফে নাসিমকে (৫৫) গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। রোববার দুপুরে উপজেলার ফরমাইশখানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে পৌনে ১২টার মধ্যে ফরমাইশখানা এলাকার তৈয়বের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন নাসিম। এ সময় ভ্যানযোগে আসা দুই ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়ে। গুলিতে নাসিম গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাসিমের মাথায় তিনটি গুলি বিদ্ধ হয়। হামলার পর দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হোসাইন মাসুম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিন রাউন্ড তাজা গুলি ও তিন রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত নাসিম খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশখানা এলাকার মৃত আ. গফুরের ছেলে।
পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা যায়, নাসিমুল গণি করিম ওরফে নাসিম খুলনার নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) একজন আঞ্চলিক নেতা ছিলেন। দিঘলিয়া ও খুলনা অঞ্চলকে কেন্দ্র করে তিনি চরমপন্থী কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ডাকাতি ও অস্ত্র কেনাবেচাসহ প্রায় এক ডজন মামলা রয়েছে। আলোচিত গণেশ হত্যা মামলায় তার ৩২ বছরের কারাদণ্ড এবং একটি অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে। এছাড়া বিএনপি নেতা রিয়াজ শাহেদকে হত্যাচেষ্টা এবং জাহিদ চেয়ারম্যান হত্যা মামলারও আসামি ছিলেন তিনি।
পুলিশ সূত্র জানায়, ২০০২ সালে গণেশ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালত থেকে জামিন নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান নাসিম। এরপর প্রায় ২১ বছর বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে পলাতক ছিলেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ তাকে প্রথম দফায় গ্রেপ্তার করে।
এরপর ২০২৫ সালের ১৮ জুন রাতে দিঘলিয়া থানা পুলিশ তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে। তবে থানায় নেওয়ার পথে তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান জোরদার করে। ঘটনার চার দিন পর ২২ জুন খুলনার খালিশপুরের মুজগুন্নি পার্ক এলাকার একটি ভবন থেকে গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।
নাসিমের বিরুদ্ধে হুজি শহীদ, মুন্না, ইকবাল হুজুর ও ফকিরহাটের জাহিদ চেয়ারম্যান হত্যাসহ এক ডজনের বেশি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, নিহত নাসিমের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে সাতটি মামলার রেকর্ড পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি হত্যা, একটি অস্ত্র এবং একটি মারামারির মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও মামলা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নাসিমের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।





















