ঢাকা ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তদন্তের দাবি

তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিত্যক্ত মালামাল বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন

আব্দুর রশিদ, সাতক্ষীরা
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩০ বার পঠিত

সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুরোনো ও ব্যবহারের অনুপযোগী বিভিন্ন মালামাল বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি বিধি ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এসব মালামাল বিক্রি করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা আলোচনা। একই সঙ্গে বিক্রি হওয়া মালামালের পরিমাণ, ধরন ও বিক্রয়মূল্যের তথ্য প্রকাশ না করায় বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো আলমারিসহ বেশ কিছু মালামাল দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এসব মালামাল প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি বা নিলামের মাধ্যমে বিক্রির পরিবর্তে হাসপাতালের স্টোরকিপার অসিত কুমার বিক্রি করেছেন।

মালামাল বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে স্টোরকিপার অসিত কুমার বলেন, হ্যাঁ, বিক্রি করা হয়েছে। তবে কীভাবে বা কোন প্রক্রিয়ায় হয়েছে, এ বিষয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আছেন। তাঁর কাছে গেলে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

তবে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, মালামাল বিক্রির জন্য কোনো বিজ্ঞাপন বা প্রচার দেওয়া না হলেও হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে বিষয়টি জানানো হয়েছিল।

তাঁর ভাষ্য, হাসপাতালের অব্যবহৃত মালামাল বিক্রির জন্য সমাজসেবা, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি রয়েছে। ওই কমিটির সদস্যদের নিয়ে সভা করে মালামাল বিক্রির কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে বিক্রি হওয়া মালামালের সংখ্যা, ধরন ও বিক্রয়মূল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ-সংক্রান্ত কোনো তালিকা দিতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজেরা খাতুন ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কথা জানিয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারেননি। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কাছ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা নিয়েও রোগীদের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে। রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করার কথা থাকলেও গজ, ব্যান্ডেজ ও বিভিন্ন ওষুধ অনেক সময় যথাসময়ে পাওয়া যায় না। ফলে পাঁচ টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।

এ ছাড়া হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক অফিস চলাকালীন হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন ক্লিনিক বা ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখেন, এমন অভিযোগও রয়েছে। হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের চালক এনামুলকে নিয়েও নানা অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ডা. মিজানুর রহমান বলেন, আপনাদের কাছ থেকে অভিযোগটি শুনলাম। প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু তালা উপজেলার মানুষই নয়, আশপাশের কয়েকটি উপজেলার বাসিন্দারাও চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। ফলে সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিত্যক্ত মালামাল বিক্রির প্রক্রিয়া, বিক্রয়মূল্য ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ট্যাগস :

তদন্তের দাবি

তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিত্যক্ত মালামাল বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুরোনো ও ব্যবহারের অনুপযোগী বিভিন্ন মালামাল বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি বিধি ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এসব মালামাল বিক্রি করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা আলোচনা। একই সঙ্গে বিক্রি হওয়া মালামালের পরিমাণ, ধরন ও বিক্রয়মূল্যের তথ্য প্রকাশ না করায় বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো আলমারিসহ বেশ কিছু মালামাল দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এসব মালামাল প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি বা নিলামের মাধ্যমে বিক্রির পরিবর্তে হাসপাতালের স্টোরকিপার অসিত কুমার বিক্রি করেছেন।

মালামাল বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে স্টোরকিপার অসিত কুমার বলেন, হ্যাঁ, বিক্রি করা হয়েছে। তবে কীভাবে বা কোন প্রক্রিয়ায় হয়েছে, এ বিষয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আছেন। তাঁর কাছে গেলে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

তবে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, মালামাল বিক্রির জন্য কোনো বিজ্ঞাপন বা প্রচার দেওয়া না হলেও হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে বিষয়টি জানানো হয়েছিল।

তাঁর ভাষ্য, হাসপাতালের অব্যবহৃত মালামাল বিক্রির জন্য সমাজসেবা, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি রয়েছে। ওই কমিটির সদস্যদের নিয়ে সভা করে মালামাল বিক্রির কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে বিক্রি হওয়া মালামালের সংখ্যা, ধরন ও বিক্রয়মূল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ-সংক্রান্ত কোনো তালিকা দিতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজেরা খাতুন ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কথা জানিয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারেননি। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কাছ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা নিয়েও রোগীদের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে। রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করার কথা থাকলেও গজ, ব্যান্ডেজ ও বিভিন্ন ওষুধ অনেক সময় যথাসময়ে পাওয়া যায় না। ফলে পাঁচ টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।

এ ছাড়া হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক অফিস চলাকালীন হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন ক্লিনিক বা ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখেন, এমন অভিযোগও রয়েছে। হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের চালক এনামুলকে নিয়েও নানা অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ডা. মিজানুর রহমান বলেন, আপনাদের কাছ থেকে অভিযোগটি শুনলাম। প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু তালা উপজেলার মানুষই নয়, আশপাশের কয়েকটি উপজেলার বাসিন্দারাও চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। ফলে সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিত্যক্ত মালামাল বিক্রির প্রক্রিয়া, বিক্রয়মূল্য ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।