ঢাকা ১১:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কেশবপুরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বিএনপি নেতা আজাদ Logo বেনাপোলে হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন Logo কেশবপুরে ১০২ পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তারা Logo যশোরে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ Logo দেবী দুর্গার আর্বিভাবে ত্রিলোকের মহাবিপদ নাশ হয় মহাষ্টমীতে Logo ভিডিও বার্তায় শিক্ষকের নাম বলে শার্শায় প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা Logo যশোর সরকারি সিটি কলেজের নতুন অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুস সালাম আজাদ Logo সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে বাকশিস নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় Logo মণিরামপুর-রাজগঞ্জ সড়কে মাটি, অবৈধ ট্রলির দাপট Logo দুর্গাপূজায় সাতক্ষীরার ৬৪ হিন্দু পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

খুলনায় ৩৯৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজায় এসআরবি’র তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:০৯:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৯ বার পঠিত

শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৬ (এসআরবি-৬)। এর আওতায় পূজামণ্ডপে বিশেষ টহল, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। খুলনা জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৩৯৪টি পূজামণ্ডপকে নিরাপত্তার আওতায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসআরবি-৬-এর প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। ব্রিফিংয়ে বলা হয়, এসআরবি ফোর্সেস সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১৩ অক্টোবর থেকে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিশেষ টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৬-এর দায়িত্বপূর্ণ আটটি জেলায় মোট ৫ হাজার ৩৫৪টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলা ও মহানগরে রয়েছে ৩৯৪টি পূজামণ্ডপ। নিরাপত্তা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পূজামণ্ডপগুলোকে প্রথমে জেলাভিত্তিক এবং পরে উপজেলাভিত্তিক ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা। তাঁরা নিজ নিজ এলাকার টহল দল নিয়ে দায়িত্বাধীন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনটি স্তরে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রথম স্তরে টহল দল সরেজমিনে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি শহর ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দ্বিতীয় স্তরে সাদা পোশাকে ফিল্ড এজেন্ট ও গোয়েন্দারা নজরদারি করছেন। তৃতীয় স্তরে রাখা হয়েছে রিজার্ভ ফোর্স, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

পূজাকে কেন্দ্র করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্ভাব্য অপতৎপরতা ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। এসআরবি সদর দপ্তর থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে সাইবার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটালিয়ন পর্যায়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোনো উসকানিমূলক তৎপরতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই এ নজরদারির উদ্দেশ্য। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বয় সভা সম্পন্ন হয়েছে। আয়োজক কমিটি, সাধারণ মানুষ, গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত সহযোগিতায় প্রতিবছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পূজার কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদযাপনই সংশ্লিষ্টদের মূল লক্ষ্য।

ট্যাগস :

খুলনায় ৩৯৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজায় এসআরবি’র তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

আপডেট সময় : ০৬:০৯:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৬ (এসআরবি-৬)। এর আওতায় পূজামণ্ডপে বিশেষ টহল, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। খুলনা জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৩৯৪টি পূজামণ্ডপকে নিরাপত্তার আওতায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসআরবি-৬-এর প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। ব্রিফিংয়ে বলা হয়, এসআরবি ফোর্সেস সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১৩ অক্টোবর থেকে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিশেষ টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৬-এর দায়িত্বপূর্ণ আটটি জেলায় মোট ৫ হাজার ৩৫৪টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলা ও মহানগরে রয়েছে ৩৯৪টি পূজামণ্ডপ। নিরাপত্তা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পূজামণ্ডপগুলোকে প্রথমে জেলাভিত্তিক এবং পরে উপজেলাভিত্তিক ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা। তাঁরা নিজ নিজ এলাকার টহল দল নিয়ে দায়িত্বাধীন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনটি স্তরে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রথম স্তরে টহল দল সরেজমিনে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি শহর ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দ্বিতীয় স্তরে সাদা পোশাকে ফিল্ড এজেন্ট ও গোয়েন্দারা নজরদারি করছেন। তৃতীয় স্তরে রাখা হয়েছে রিজার্ভ ফোর্স, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

পূজাকে কেন্দ্র করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্ভাব্য অপতৎপরতা ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। এসআরবি সদর দপ্তর থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে সাইবার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটালিয়ন পর্যায়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোনো উসকানিমূলক তৎপরতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই এ নজরদারির উদ্দেশ্য। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বয় সভা সম্পন্ন হয়েছে। আয়োজক কমিটি, সাধারণ মানুষ, গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত সহযোগিতায় প্রতিবছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পূজার কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদযাপনই সংশ্লিষ্টদের মূল লক্ষ্য।