কৃষক মৃত্যুঞ্জয়ের মুখে প্রাপ্তির হাসি
অসময়ের তরমুজে ডুমুরিয়ায় সফলতা
- আপডেট সময় : ০৩:২৩:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
- / ৪৩ বার পঠিত

উপকূলীয় জেলা খুলনার ডুমুরিয়ায় অসময়ের (অফ-সিজন) তরমুজ চাষে সাফল্য পেয়েছেন কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল। প্রচলিত মৌসুমের বাইরে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ায় তাঁর চোখে-মুখে এখন আনন্দের ছাপ। তাঁর সাফল্য দেখে আশপাশের কৃষকেরাও অসময়ের তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়নের ছোটবন্দ গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাচাজুড়ে ঝুলছে তরমুজ। গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল। অনুকূল বাজারদর পেলে এই তরমুজ বিক্রি করে ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।
মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল বলেন, ‘প্রথমে অসময়ে তরমুজ চাষ নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তবে কৃষি অফিসের পরামর্শ ও নিয়মিত পরিচর্যার কারণে খেতে ভালো ফলন পেয়েছি। অসময়ের তরমুজের বাজারে আলাদা চাহিদা রয়েছে এবং দামও ভালো পাওয়া যায়। খরচ তুলে এবার প্রায় দ্বিগুণ লাভের আশা করছি।’
তিনি জানান, তাঁর ৪০ শতক জমিতে ‘আস্থা’ জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। এতে তাঁর মোট খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। প্রাথমিকভাবে ৪২ মণ তরমুজ উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে এর মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৮৪ হাজার টাকা। পরবর্তী সময়ে আরও প্রায় ২৫ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি হতে পারে বলে তাঁর ধারণা। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার টাকা। সে হিসাবে তাঁর সম্ভাব্য নিট লাভ প্রায় ৮৯ হাজার টাকা। আমার এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকেরাও মাচা পদ্ধতিতে অসময়ের তরমুজ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ, নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন এবং আধুনিক মাচা পদ্ধতিতে চাষাবাদের কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। লবণাক্ততা ও প্রতিকূল আবহাওয়া থাকা সত্ত্বেও মৃত্যুঞ্জয় মন্ডলের মতো কৃষকদের পরিশ্রম ও সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে ডুমুরিয়ায় অসময়ের তরমুজের ভালো ফলন সম্ভব হয়েছে।
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, খুলনার উপকূলীয় এলাকায় অফ-সিজন তরমুজ চাষ কৃষকদের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। সাধারণ মৌসুমের ধান বা অন্যান্য ফসলের তুলনায় এসব উচ্চমূল্যের ফসলে অনেক ক্ষেত্রে বেশি লাভ পাওয়া সম্ভব। আমরা জেলার কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় এনে উচ্চমূল্যের ফসল চাষে উৎসাহিত করছি। এর মাধ্যমে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
ডুমুরিয়ায় অসময়ের তরমুজের ভালো ফলনকে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডলের সাফল্য দেখে ভবিষ্যতে এলাকার আরও কৃষক মাচা পদ্ধতিতে অফ-সিজন তরমুজ চাষে এগিয়ে আসবেন বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
























