তথ্য সংগ্রহকালে সাংবাদিকের ওপর হামলা
কেশবপুরে মাদ্রাসার কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের হট্টগোল
- আপডেট সময় : ০৯:৫৫:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
- / ৩৬ বার পঠিত

যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের চিংড়া ধর্মপুর দারুছ সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসায় পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট বাকবিতণ্ডা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর আগে, ওই মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও গোপনে কমিটি গঠনের সংবাদ ‘সরেজমিনে’ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি (NTV)-এর অনলাইন মনিরামপুর-কেশবপুর প্রতিনিধি এনামুল হাসান। হামলাকারীরা তাঁর পেশাগত কাজের ক্যামেরা ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ উঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চিংড়া ধর্মপুর দারুছ সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে, রাতের আঁধারে অবৈধভাবে দাতা সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে গোপনে পকেট গভর্নিং কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে রোববার (২৮ জুন) সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সাধারণ এলাকাবাসী ও অধ্যক্ষের পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে, উক্ত মাদ্রাসার অবৈধ কমিটি বাতিল এবং অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্টার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন চিংড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আব্দুল হামিদ।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল, অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম এর আগেও স্বৈরাচার মাদ্রাসা’র সুপার থাকাকালীন সময়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) হয়েছিলেন। এছাড়া বর্তমান মাদ্রাসার বাউন্ডারি ওয়াল (সীমানা প্রাচীর) নির্মাণের সময় আর্থিক অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে মাদ্রাসার নিজস্ব জমি ছেড়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
রোববার এই সংকটের সরেজমিন তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী একটি পক্ষ সংবাদকর্মীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা বিএনপির সদস্য রেজাউল মোড়ল এবং ২নং সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকরাম খানের ভাইপো ও যুবনেতা ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক সাংবাদিক এনামুল হাসানের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাঁর ক্যামেরা ভাঙচুর করে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় কেশবপুর ও মনিরামপুরের কর্মরত সাংবাদিক সমাজ তীব্র নিন্দা ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
গোপনে কমিটি গঠন ও জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন,বিএনপি’র হাই কমান্ডে নির্দেশে কমিটি পাঠিয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী কমিটি হয়েছে।
এদিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, “খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় পুলিশি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
























