ঢাকা ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

কেশবপুরে মাদ্রাসা সুপার রিজাউল ইসলাম চূড়ান্ত বরখাস্ত

জি এম মিন্টু
  • আপডেট সময় : ০২:২৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • / ২৯ বার পঠিত

যশোরের কেশবপুর উপজেলার গড়ভাঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সাময়িক বরখাস্তকৃত সুপারিনটেনডেন্ট রিজাউল ইসলামকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্তের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত ২৪ জুন ২০২৬ তারিখের এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ মে ২০২৬ অনুষ্ঠিত বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটির সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়।

সভায় বাদী ও বিবাদী উভয়পক্ষ উপস্থিত থেকে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পরে সুপারিনটেনডেন্ট রিজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। অভিযোগগুলো প্রমাণিত হওয়ায় আপিল ও সালিশ কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্তের আবেদন অনুমোদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

চেয়ারম্যানের নির্দেশক্রমে জারি করা ওই আদেশে গড়ভাঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত সুপার, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তর এবং রিজাউল ইসলামকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদেশের অনুলিপি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, যশোরের জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগকারী সূত্রে জানা যায়, রিজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার টিউশন ফি বাবদ ২ লাখ ৬৬ হাজার ১০০ টাকা আত্মসাৎ, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৯ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ এবং নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে ছয়টি অভিযোগের তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি রেক্সোনা খাতুন তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্তের অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করা হলে বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।

ট্যাগস :

কেশবপুরে মাদ্রাসা সুপার রিজাউল ইসলাম চূড়ান্ত বরখাস্ত

আপডেট সময় : ০২:২৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

যশোরের কেশবপুর উপজেলার গড়ভাঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সাময়িক বরখাস্তকৃত সুপারিনটেনডেন্ট রিজাউল ইসলামকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্তের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত ২৪ জুন ২০২৬ তারিখের এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ মে ২০২৬ অনুষ্ঠিত বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটির সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়।

সভায় বাদী ও বিবাদী উভয়পক্ষ উপস্থিত থেকে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পরে সুপারিনটেনডেন্ট রিজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। অভিযোগগুলো প্রমাণিত হওয়ায় আপিল ও সালিশ কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্তের আবেদন অনুমোদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

চেয়ারম্যানের নির্দেশক্রমে জারি করা ওই আদেশে গড়ভাঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত সুপার, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তর এবং রিজাউল ইসলামকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদেশের অনুলিপি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, যশোরের জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগকারী সূত্রে জানা যায়, রিজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার টিউশন ফি বাবদ ২ লাখ ৬৬ হাজার ১০০ টাকা আত্মসাৎ, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৯ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ এবং নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে ছয়টি অভিযোগের তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি রেক্সোনা খাতুন তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্তের অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করা হলে বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।