ঢাকা ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

গর্ভধারিণী মায়ের ওপর ছেলেদের নির্যাতন, থানায় অভিযোগ

বেনাপোল সংবাদদাতা
  • আপডেট সময় : ০১:৪৩:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • / ১০৭ বার পঠিত

যশোরের বেনাপোল পৌরসভার সাদীপুর গ্রামে গর্ভধারিণী বৃদ্ধ মা ও বোনকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মা আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ১০টার দিকে সাদীপুর গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার হন মৃত মান্নানের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম এবং তার মেয়ে মাহফুজা খাতুন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আনোয়ারা বেগমের ছেলে রাসু ও তার ভাই নেদু ক্ষিপ্ত হয়ে মা ও বোনের ওপর হামলা চালান। এ সময় তারা লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করলে মা ও মেয়ে গুরুতর আহত হন। তাদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মারধরের পর আহত অবস্থায় মা ও মেয়েকে রাতেই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং বাড়ির প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে তারা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলেরা প্রায়ই তাকে অকারণে মারধর করে। কোরবানির ঈদের পরও বড় ছেলে তাকে মারধর করেছিলেন। সর্বশেষ ঘটনায় ছোট ছেলে রাসুসহ অন্যরা তাকে ও তার মেয়েকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

মাহফুজা খাতুন বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একটি কন্যাসন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন। তার অভিযোগ, ভাই ও ভাবিরা তার সন্তানকে সহ্য করতে পারেন না। সামান্য বিষয় নিয়েও তারা তার সন্তানকে মারধর করেন এবং প্রতিবাদ করলে তাকে ও তার মাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। সর্বশেষ ঘটনায় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফ হোসেন বলেন, “গর্ভধারিণী মা ও বোনকে মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ট্যাগস :

গর্ভধারিণী মায়ের ওপর ছেলেদের নির্যাতন, থানায় অভিযোগ

আপডেট সময় : ০১:৪৩:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

যশোরের বেনাপোল পৌরসভার সাদীপুর গ্রামে গর্ভধারিণী বৃদ্ধ মা ও বোনকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মা আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ১০টার দিকে সাদীপুর গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার হন মৃত মান্নানের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম এবং তার মেয়ে মাহফুজা খাতুন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আনোয়ারা বেগমের ছেলে রাসু ও তার ভাই নেদু ক্ষিপ্ত হয়ে মা ও বোনের ওপর হামলা চালান। এ সময় তারা লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করলে মা ও মেয়ে গুরুতর আহত হন। তাদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মারধরের পর আহত অবস্থায় মা ও মেয়েকে রাতেই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং বাড়ির প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে তারা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলেরা প্রায়ই তাকে অকারণে মারধর করে। কোরবানির ঈদের পরও বড় ছেলে তাকে মারধর করেছিলেন। সর্বশেষ ঘটনায় ছোট ছেলে রাসুসহ অন্যরা তাকে ও তার মেয়েকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

মাহফুজা খাতুন বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একটি কন্যাসন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন। তার অভিযোগ, ভাই ও ভাবিরা তার সন্তানকে সহ্য করতে পারেন না। সামান্য বিষয় নিয়েও তারা তার সন্তানকে মারধর করেন এবং প্রতিবাদ করলে তাকে ও তার মাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। সর্বশেষ ঘটনায় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফ হোসেন বলেন, “গর্ভধারিণী মা ও বোনকে মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”