ঝিকরগাছায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু
- আপডেট সময় : ০১:৩৭:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১১ বার পঠিত

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের দেউলী গ্রামে সাদিয়া আক্তার(১৩) নামে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে সাদিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হুমায়ুন কবির (৩০) নামে এক যুবককে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
নিহত সাদিয়া আক্তার দেউলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক শহিদুল ইসলামের মেয়ে। হুমায়ুন কবির একই গ্রামের আব্দুস সালাম ওরফে ভোলার ছেলে এবং কিশোরীর নিকট প্রতিবেশী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাদিয়ার মা সালমা খাতুন মাঠে ঘাস কাটতে যান। তার বাবা শহিদুল ইসলাম চাচা হযরতের নার্সারি থেকে গাছের চারা নিয়ে মহেশপাড়া বাজারে যান। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না।
পরিবারের দাবি, ওই সময় প্রতিবেশী রাজুর ১০ বছর বয়সী মেয়ে মিম প্রথমে সাদিয়াকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে প্রতিবেশীরা সাদিয়াকে উদ্ধার করে বাগআঁচড়া বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়।
নিহতের মা সালমা খাতুন ও বাবা শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, হুমায়ুন কবির দীর্ঘদিন ধরে সাদিয়াকে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি সাদিয়া তার বাবা-মাকে জানিয়েছিল। ঘটনার পাঁচ দিন আগেও সাদিয়ার হাতে হুমায়ুনকে কিছু একটা দিতে দেখেছিলেন তার মা। পরে মেয়েকে সতর্কও করেছিলেন তিনি।
সাদিয়ার মা সালমা খাতুনের দাবি, তার মেয়েকে পাশবিক নির্যাতনের পর গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
নিহতের দাদা শওকত গাজী, দাদি রফিকা বেগম, চাচা মাসুম বিল্লাহ, ফুপু কাজল বেগম এবং প্রতিবেশী মোস্তাফিজুর রহমান, নাজমুন নাহার বেগম, আব্দুর রহিম ও মুসা রাজসহ কয়েকজনের দাবি, হুমায়ুন কবির নিয়মিত গাঁজা সেবনসহ বিভিন্ন ধরনের নেশায় আসক্ত ছিলেন।
ঘটনার খবর পেয়ে ঝিকরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরে মরদেহ যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ঝিকরগাছা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়।
পরে নিহতের মা সালমা খাতুনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে দেউলী গ্রামের বটতলা মোড় থেকে হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা থানার ডিউটি অফিসার এসআই ফিরোজ জানান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছুটিতে রয়েছেন এবং ওসি (তদন্ত) তখন থানায় ছিলেন না। তাদের অনুমতি ছাড়া পুলিশ হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ভিডিও ধারণ বা ফুটেজ দেওয়া সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে নাভারন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আরিফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন। তবে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে তথ্য দেওয়া যাবে না বলে জানান।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং সাদিয়াকে নির্যাতন বা হত্যা করা হয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

























