ঢাকা ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাকে ফিরে পেতে সন্তানের কান্না

সাতক্ষীরায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে ফুসলিয়ে বিয়ের অভিযোগ

আব্দুর রশিদ, সাতক্ষীরা
  • আপডেট সময় : ০৮:০৮:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৪০ বার পঠিত

সাতক্ষীরার ভোমরা ইউনিয়নের নবাতকাটি গ্রামে টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক গৃহবধূকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবুর বিরুদ্ধে। পরে ওই গৃহবধূ লাবনী সরকার (২৬) ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকারকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেছেন তার স্বামী অর্জুন সরকার।

এ ঘটনায় স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন অর্জুন সরকার। অন্যদিকে, মাকে ফিরে পেতে কান্নায় ভেঙে পড়েছে তাদের ১১ বছরের সন্তান অর্ক সরকার। সে মায়ের ফিরে আসার অপেক্ষায় খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

অর্জুন সরকার ভোমরা স্থলবন্দরের কর্মচারী। পাশাপাশি তিনি মৎস্য ঘেরের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তার স্ত্রী লাবনী সরকার দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ এলাকার পত্নীতলা গ্রামের ঠাকুরপদ সরকারের মেয়ে।

অর্জুন সরকারের অভিযোগ, টিকটকের মাধ্যমে তার স্ত্রী লাবনীর সঙ্গে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবুর পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে দেবপ্রসাদ সরকার তার স্ত্রীকে ফুসলিয়ে নিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি।

অর্জুন সরকার জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর লাবনী তাদের ১১ বছরের ছেলে অর্ককে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়িতে যান। পরে শনিবার অর্ককে নবাতকাটি গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে লাবনী ছেলেকে বলেন, ‘বাবা, তুমি আজ বাড়ি যাও। আমি কয়েকদিন পরে আসব।’

তবে অর্জুনের অভিযোগ, বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় লাবনী নগদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা, আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের হার, এক ভরি ওজনের দুটি রুলি, পায়ের নূপুর ও স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে তার ছেলে অর্কের বক্তব্যের একটি ভিডিও রেকর্ডিং প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা অবশ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অর্জুন সরকার বলেন, স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকে তাদের সংসারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তার ছেলে মাকে ফিরে পাওয়ার জন্য মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার ছোট শিশুটির মুখের দিকে তাকিয়ে আমি আমার স্ত্রীকে যে কোনো মূল্যে ফিরে পেতে চাই। আমি চাই, আমার সন্তান তার মাকে ফিরে পাক।’

তিনি আরও জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দেবপ্রসাদ সরকারকে আসামি করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।

এদিকে অর্ক সরকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছে। তার দাবি, মায়ের সঙ্গে মামাবাড়িতে যাওয়ার পর তাকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতাও চেয়েছে সে।

অর্জুন সরকার জানান, গত শনিবারের পর লাবনীর সঙ্গে তার দুই-তিনবার ফোনে কথা হয়েছে। তার দাবি, লাবনী তাকে জানিয়েছেন যে তিনি দেবপ্রসাদ সরকারকে বিয়ে করতে চান। স্বামী ও ছেলে তাকে ফিরিয়ে আনতে গেলে তাদের যাওয়ার খবর পেয়ে লাবনী সামনে আসেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

অর্জুন সরকার আরও অভিযোগ করেন, লাবনী তার মা-বাবার পরামর্শে তাকে সর্বস্বান্ত করে বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে গেছেন। একই সঙ্গে তিনি লাবনীর ছোট বোন সুস্মিতা সরকারের সংসার ভেঙে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার বিষয়েও অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগেরও স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা বৈধভাবে বিয়ে করেছি।

এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অর্জুন সরকারের দাবি, তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে এনে তাদের ১১ বছরের সন্তানের মায়ের সান্নিধ্য নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ট্যাগস :

মাকে ফিরে পেতে সন্তানের কান্না

সাতক্ষীরায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে ফুসলিয়ে বিয়ের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:০৮:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরার ভোমরা ইউনিয়নের নবাতকাটি গ্রামে টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক গৃহবধূকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবুর বিরুদ্ধে। পরে ওই গৃহবধূ লাবনী সরকার (২৬) ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকারকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেছেন তার স্বামী অর্জুন সরকার।

এ ঘটনায় স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন অর্জুন সরকার। অন্যদিকে, মাকে ফিরে পেতে কান্নায় ভেঙে পড়েছে তাদের ১১ বছরের সন্তান অর্ক সরকার। সে মায়ের ফিরে আসার অপেক্ষায় খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

অর্জুন সরকার ভোমরা স্থলবন্দরের কর্মচারী। পাশাপাশি তিনি মৎস্য ঘেরের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তার স্ত্রী লাবনী সরকার দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ এলাকার পত্নীতলা গ্রামের ঠাকুরপদ সরকারের মেয়ে।

অর্জুন সরকারের অভিযোগ, টিকটকের মাধ্যমে তার স্ত্রী লাবনীর সঙ্গে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবুর পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে দেবপ্রসাদ সরকার তার স্ত্রীকে ফুসলিয়ে নিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি।

অর্জুন সরকার জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর লাবনী তাদের ১১ বছরের ছেলে অর্ককে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়িতে যান। পরে শনিবার অর্ককে নবাতকাটি গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে লাবনী ছেলেকে বলেন, ‘বাবা, তুমি আজ বাড়ি যাও। আমি কয়েকদিন পরে আসব।’

তবে অর্জুনের অভিযোগ, বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় লাবনী নগদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা, আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের হার, এক ভরি ওজনের দুটি রুলি, পায়ের নূপুর ও স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে তার ছেলে অর্কের বক্তব্যের একটি ভিডিও রেকর্ডিং প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা অবশ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অর্জুন সরকার বলেন, স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকে তাদের সংসারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তার ছেলে মাকে ফিরে পাওয়ার জন্য মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার ছোট শিশুটির মুখের দিকে তাকিয়ে আমি আমার স্ত্রীকে যে কোনো মূল্যে ফিরে পেতে চাই। আমি চাই, আমার সন্তান তার মাকে ফিরে পাক।’

তিনি আরও জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দেবপ্রসাদ সরকারকে আসামি করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।

এদিকে অর্ক সরকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছে। তার দাবি, মায়ের সঙ্গে মামাবাড়িতে যাওয়ার পর তাকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতাও চেয়েছে সে।

অর্জুন সরকার জানান, গত শনিবারের পর লাবনীর সঙ্গে তার দুই-তিনবার ফোনে কথা হয়েছে। তার দাবি, লাবনী তাকে জানিয়েছেন যে তিনি দেবপ্রসাদ সরকারকে বিয়ে করতে চান। স্বামী ও ছেলে তাকে ফিরিয়ে আনতে গেলে তাদের যাওয়ার খবর পেয়ে লাবনী সামনে আসেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

অর্জুন সরকার আরও অভিযোগ করেন, লাবনী তার মা-বাবার পরামর্শে তাকে সর্বস্বান্ত করে বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে গেছেন। একই সঙ্গে তিনি লাবনীর ছোট বোন সুস্মিতা সরকারের সংসার ভেঙে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার বিষয়েও অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগেরও স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা বৈধভাবে বিয়ে করেছি।

এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অর্জুন সরকারের দাবি, তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে এনে তাদের ১১ বছরের সন্তানের মায়ের সান্নিধ্য নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।