ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেলের দামে বড় পতন

  • দর্পণ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৮:১১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ২০ ভার পঠিত

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তির পর। চুক্তির ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হওয়া, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হওয়া এবং ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনায় বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স ব্যারেলপ্রতি ১.০২ ডলার বা ১.২৮ শতাংশ কমে ৭৮.৫৩ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ১.৪৮ ডলার বা ১.৯৩ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৭৫.৩১ ডলারে। এর আগে দিনের শুরুতেও দাম কমার ধারা অব্যাহত ছিল। সকাল ৬টা ৫ মিনিটে ব্রেন্ট ৮৯ সেন্ট বা ১.১২ শতাংশ কমে ৭৮.৬৬ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই ৯৮ সেন্ট বা ১.২৮ শতাংশ কমে ৭৫.৮১ ডলারে নেমে আসে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনার পর চলতি বছরের ২ মার্চের পর থেকে ব্রেন্টের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একইভাবে ৪ মার্চের পর ডব্লিউটিআইও সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের ফলে দ্রুত ইরানি তেলের সরবরাহ বাজারে ফিরে আসতে পারে—এমন প্রত্যাশা থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিক্রির চাপ বেড়েছে। আইজি’র বিশ্লেষক টনি সাইকামোরের মতে, এই পূর্বাভাসই মূলত দাম কমার প্রধান কারণ। ১৪ দফা এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় ৬০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল টোলমুক্ত করার পাশাপাশি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক নৌযান চলাচল নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো আপাতত স্থগিত রাখা হলেও দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি বাস্তবায়িত হলে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু হলে বৈশ্বিক তেল বাজারে দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহ উদ্বৃত্ত তৈরি হতে পারে। এদিকে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে গেলে জ্বালানি তেলের চাহিদা আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

তেলের দামে বড় পতন

আপডেট সময় : ০৮:১১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তির পর। চুক্তির ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হওয়া, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হওয়া এবং ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনায় বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স ব্যারেলপ্রতি ১.০২ ডলার বা ১.২৮ শতাংশ কমে ৭৮.৫৩ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ১.৪৮ ডলার বা ১.৯৩ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৭৫.৩১ ডলারে। এর আগে দিনের শুরুতেও দাম কমার ধারা অব্যাহত ছিল। সকাল ৬টা ৫ মিনিটে ব্রেন্ট ৮৯ সেন্ট বা ১.১২ শতাংশ কমে ৭৮.৬৬ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই ৯৮ সেন্ট বা ১.২৮ শতাংশ কমে ৭৫.৮১ ডলারে নেমে আসে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনার পর চলতি বছরের ২ মার্চের পর থেকে ব্রেন্টের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একইভাবে ৪ মার্চের পর ডব্লিউটিআইও সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের ফলে দ্রুত ইরানি তেলের সরবরাহ বাজারে ফিরে আসতে পারে—এমন প্রত্যাশা থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিক্রির চাপ বেড়েছে। আইজি’র বিশ্লেষক টনি সাইকামোরের মতে, এই পূর্বাভাসই মূলত দাম কমার প্রধান কারণ। ১৪ দফা এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় ৬০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল টোলমুক্ত করার পাশাপাশি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক নৌযান চলাচল নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো আপাতত স্থগিত রাখা হলেও দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি বাস্তবায়িত হলে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু হলে বৈশ্বিক তেল বাজারে দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহ উদ্বৃত্ত তৈরি হতে পারে। এদিকে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে গেলে জ্বালানি তেলের চাহিদা আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।