ঢাকা ০১:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরে ৭৪৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:২৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১০ বার পঠিত

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উৎসবের আমেজে যশোরে উদযাপিত হতে যাচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। জেলার আটটি উপজেলায় এবার ৭৪৬টি মন্দির ও মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। উৎসব নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর করতে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, যশোর জেলা শাখা। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে যশোর শহরের লালদিঘীর পুকুরপাড়ে পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তুতির কথা জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জেলার আটটি উপজেলার মধ্যে যশোর সদরে ১৩৫টি, অভয়নগরে ১৩৩টি, মনিরামপুরে ১৩১টি, কেশবপুরে ১০২টি, বাঘারপাড়ায় ৮২টি, ঝিকরগাছায় ৬১টি, চৌগাছায় ৫৩টি এবং শার্শায় ৩২টি মন্দির ও মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।

১৫ অক্টোবর সকালে বোধন ও বিকেলে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের উৎসব। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লালদিঘীর পুকুরপাড়ে পূজা উদযাপন পরিষদের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, এনএসআই, ডিজিএফআই, বিজিবি, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিটি মণ্ডপে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ রাখা, বিকল্প আলোর ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং ২৪ ঘণ্টা স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রবীণদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও হয়েছে।

উৎসব চলাকালে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ক্ষতিকর ও উত্তেজনা সৃষ্টিকারী গান পরিবেশন থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদার করতে জেলার প্রতিটি উপজেলায় হিন্দু-মুসলিম জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে সম্প্রীতি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে। এ উদ্যোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও সংহতি প্রকাশ করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবারের দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, আনন্দমুখর ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে তাঁরা আশাবাদী। এ জন্য তাঁরা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, যশোর জেলা শাখার সভাপতি দীপংকর দাস রতন, সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ, যুগ্ম সম্পাদক রতন আচার্য্য, প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত সরকার, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি রবিন কুমার পাল, সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত সরকার, কোষাধ্যক্ষ আনন্দ সাহা এবং পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক উৎপল কুমার ঘোষ।

ট্যাগস :

যশোরে ৭৪৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি

আপডেট সময় : ১০:২৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উৎসবের আমেজে যশোরে উদযাপিত হতে যাচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। জেলার আটটি উপজেলায় এবার ৭৪৬টি মন্দির ও মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। উৎসব নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর করতে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, যশোর জেলা শাখা। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে যশোর শহরের লালদিঘীর পুকুরপাড়ে পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তুতির কথা জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জেলার আটটি উপজেলার মধ্যে যশোর সদরে ১৩৫টি, অভয়নগরে ১৩৩টি, মনিরামপুরে ১৩১টি, কেশবপুরে ১০২টি, বাঘারপাড়ায় ৮২টি, ঝিকরগাছায় ৬১টি, চৌগাছায় ৫৩টি এবং শার্শায় ৩২টি মন্দির ও মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।

১৫ অক্টোবর সকালে বোধন ও বিকেলে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের উৎসব। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লালদিঘীর পুকুরপাড়ে পূজা উদযাপন পরিষদের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, এনএসআই, ডিজিএফআই, বিজিবি, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিটি মণ্ডপে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ রাখা, বিকল্প আলোর ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং ২৪ ঘণ্টা স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রবীণদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও হয়েছে।

উৎসব চলাকালে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ক্ষতিকর ও উত্তেজনা সৃষ্টিকারী গান পরিবেশন থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদার করতে জেলার প্রতিটি উপজেলায় হিন্দু-মুসলিম জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে সম্প্রীতি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে। এ উদ্যোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও সংহতি প্রকাশ করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবারের দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, আনন্দমুখর ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে তাঁরা আশাবাদী। এ জন্য তাঁরা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, যশোর জেলা শাখার সভাপতি দীপংকর দাস রতন, সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ, যুগ্ম সম্পাদক রতন আচার্য্য, প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত সরকার, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি রবিন কুমার পাল, সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত সরকার, কোষাধ্যক্ষ আনন্দ সাহা এবং পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক উৎপল কুমার ঘোষ।