নিখোঁজ কৃষকের সন্ধান চেয়ে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় : ০৭:২৩:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
- / ৩২ বার পঠিত

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার গোপীকান্তপুর গ্রামের কৃষক হারুনার রশিদ (৪৬) নিখোঁজ হওয়ার ১২ দিন পার হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি বলে দাবি করেছে পরিবার। দ্রুত তাকে জীবিত উদ্ধার এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবিতে বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্বজনরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হারুনার রশিদের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী এমরান আলী মাস্টার। তিনি জানান, গত ২০ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হারুনার রশিদ কেশবপুরে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। পরিবারের সদস্যদের তিনি জানিয়েছিলেন, সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু এরপর আর তিনি বাড়ি ফেরেননি।
এমরান আলী বলেন, পরদিন ২১ জুন আত্মীয়স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে ওই দিন রাত ১১টার দিকে মণিরামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
পরিবারের দাবি, জিডির পর তদন্তকারী কর্মকর্তা মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করে জানতে পারেন, হারুনার রশিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিম সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জুইখালী কামারালী এলাকায় গিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন পুলিশ ও স্বজনরা সেখানে গিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান চালালেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, তদন্তের অংশ হিসেবে একজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য র্যাব-৬-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ পরিবারকে জানিয়েছে। র্যাবের সদস্যরাও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
এমরান আলী বলেন, “আজ পর্যন্ত আমার ভাই জীবিত নাকি মৃত—সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য আমরা পাইনি। প্রযুক্তির এই যুগে ১২ দিন পার হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। আমরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”
তিনি জানান, হারুনার রশিদের পরিবারে স্ত্রী, এক বিবাহিত মেয়ে, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কন্যা এবং চার বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার নিখোঁজ হওয়ায় পরিবার মানবিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, হারুনার রশিদ পাওনা টাকা আনতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। তবে তার স্ত্রী শিল্পী বেগমের ভাষ্য, বাজারে অবস্থানকালে একটি ফোনকল পাওয়ার পর তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান এবং এরপর আর বাড়ি ফেরেননি।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হারুনার রশিদকে জীবিত উদ্ধার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে হারুনার রশিদের স্ত্রী শিল্পী বেগম, বড় মেয়ে শান্তা, ছোট মেয়ে লামিয়া, ছেলে ডালিফসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
























