ঢাকা ০৩:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন গণিত শিক্ষক সোহরাব উদ্দিন Logo রাইস ট্রান্সপ্লান্টারে আধুনিক ধান চাষ: ডুমুরিয়ায় মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত Logo কেশবপুরে দরিদ্র নারী, অভিভাবক ও কিশোরীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ Logo টাকা চুরির অপবাদে সাজমীর হত্যা: এজাহারভুক্ত দুই আসামি গ্রেপ্তার Logo খুলনায় ফখরুল হত্যা মামলার আসামি আব্দুর রহমান গ্রেপ্তার Logo দুর্গাপূজার ছুটিতে টানা ৮ দিন বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ Logo প্রেসক্লাব যশোরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তৌহিদুর রহমানের স্মরণসভা Logo তালায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে প্রেস কনফারেন্স Logo বেনাপোল কাস্টমস যুগ্ম কমিশনারের কক্ষে তালা, নেমপ্লেট উধাও Logo চুরির মামলা তুলে নিতে প্রবাসীর পরিবারকে হুমকি

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, সাইপ্রাসে যাচ্ছেন মিনহাজুল

দর্পণ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৬:৩২:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • / ৯২ বার পঠিত

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সাইপ্রাস যাচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম। দায়িত্ব গ্রহণের আগে বুধবার (৩ জুন) তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, আগামী শুক্রবার (৫ জুন) লে. জেনারেল মিনহাজুল আলম জাতিসংঘের সদর দপ্তরের উদ্দেশে নিউইয়র্কে রওনা হবেন। সেখানে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে তিনি সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর (ইউএনএফআইসিওয়াইপি-UNFICYP) ২৩তম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

সাক্ষাৎকালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবদান, সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে শান্তিরক্ষীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে মিনহাজুল আলম অষ্টম সেনা কর্মকর্তা হিসেবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। এর আগে সাতজন বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন।

বাংলাদেশ থেকে প্রথম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে ১৯৯৩ সালে মোজাম্বিকে দায়িত্ব পালন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (মরহুম) আনিসুর রহমান। পরবর্তী সময়ে মেজর জেনারেল (অব.) আবদুস সালাম, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহি আকবর, লে. জেনারেল (অব.) আবু তায়েব মুহাম্মদ জহিরুল আলম, মেজর জেনারেল আবদুল হাফিজ এবং মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বিভিন্ন দেশে ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমানে পশ্চিম সাহারায় জাতিসংঘ মিশনে ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মেজর জেনারেল মো. ফখরুল আহসান। মিনহাজুল আলম সাইপ্রাসে দায়িত্ব গ্রহণ করলে একই সময়ে দুইজন বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তা ফোর্স কমান্ডার পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন, যা দেশের জন্য একটি বিশেষ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মিনহাজুল আলমের এই নিয়োগ সেই গৌরবময় ধারাবাহিকতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।

উল্লেখ্য, সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী (UNFICYP) জাতিসংঘের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর একটি। ১৯৬৪ সালে গ্রিক সাইপ্রিয়ট ও তুর্কি সাইপ্রিয়ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত প্রতিরোধের লক্ষ্যে মিশনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এর প্রধান দায়িত্ব হলো ‘গ্রিন লাইন’ নামে পরিচিত জাতিসংঘের বাফার জোন রক্ষণাবেক্ষণ এবং যুদ্ধবিরতি রেখা তদারকি করা। মিশনটিতে ১ হাজার ৯০ জন সদস্যের অনুমোদন রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে ৭২৭ জন সামরিক সদস্য, ৬০ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ১৪৮ জন বেসামরিক কর্মী দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বর্তমানে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কানাডা, চিলি, ইকুয়েডর, ঘানা, হাঙ্গেরি, ভারত, মঙ্গোলিয়া, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, রাশিয়া, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ ১৮টি দেশের সামরিক সদস্য এ মিশনে অংশগ্রহণ করছেন।

ট্যাগস :

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, সাইপ্রাসে যাচ্ছেন মিনহাজুল

আপডেট সময় : ০৬:৩২:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সাইপ্রাস যাচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম। দায়িত্ব গ্রহণের আগে বুধবার (৩ জুন) তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, আগামী শুক্রবার (৫ জুন) লে. জেনারেল মিনহাজুল আলম জাতিসংঘের সদর দপ্তরের উদ্দেশে নিউইয়র্কে রওনা হবেন। সেখানে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে তিনি সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর (ইউএনএফআইসিওয়াইপি-UNFICYP) ২৩তম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

সাক্ষাৎকালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবদান, সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে শান্তিরক্ষীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে মিনহাজুল আলম অষ্টম সেনা কর্মকর্তা হিসেবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। এর আগে সাতজন বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন।

বাংলাদেশ থেকে প্রথম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে ১৯৯৩ সালে মোজাম্বিকে দায়িত্ব পালন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (মরহুম) আনিসুর রহমান। পরবর্তী সময়ে মেজর জেনারেল (অব.) আবদুস সালাম, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহি আকবর, লে. জেনারেল (অব.) আবু তায়েব মুহাম্মদ জহিরুল আলম, মেজর জেনারেল আবদুল হাফিজ এবং মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বিভিন্ন দেশে ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমানে পশ্চিম সাহারায় জাতিসংঘ মিশনে ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মেজর জেনারেল মো. ফখরুল আহসান। মিনহাজুল আলম সাইপ্রাসে দায়িত্ব গ্রহণ করলে একই সময়ে দুইজন বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তা ফোর্স কমান্ডার পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন, যা দেশের জন্য একটি বিশেষ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মিনহাজুল আলমের এই নিয়োগ সেই গৌরবময় ধারাবাহিকতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।

উল্লেখ্য, সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী (UNFICYP) জাতিসংঘের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর একটি। ১৯৬৪ সালে গ্রিক সাইপ্রিয়ট ও তুর্কি সাইপ্রিয়ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত প্রতিরোধের লক্ষ্যে মিশনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এর প্রধান দায়িত্ব হলো ‘গ্রিন লাইন’ নামে পরিচিত জাতিসংঘের বাফার জোন রক্ষণাবেক্ষণ এবং যুদ্ধবিরতি রেখা তদারকি করা। মিশনটিতে ১ হাজার ৯০ জন সদস্যের অনুমোদন রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে ৭২৭ জন সামরিক সদস্য, ৬০ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ১৪৮ জন বেসামরিক কর্মী দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বর্তমানে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কানাডা, চিলি, ইকুয়েডর, ঘানা, হাঙ্গেরি, ভারত, মঙ্গোলিয়া, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, রাশিয়া, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ ১৮টি দেশের সামরিক সদস্য এ মিশনে অংশগ্রহণ করছেন।