
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের সাইটখালী গ্রামে অবৈধভাবে কৃষিজমি কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র কৃষিজমি থেকে মাটি উত্তোলন করে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে একদিকে কৃষিজমির পরিমাণ কমছে, অন্যদিকে পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
আইন অনুযায়ী, ‘বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ এবং ‘বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন, ২০২৩’-এর বিধান অনুসারে অনুমতি ছাড়া বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে মাটি কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি কেটে বাণিজ্যিকভাবে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে আবাদযোগ্য জমি ধীরে ধীরে গভীর গর্ত ও জলাশয়ে পরিণত হচ্ছে। কৃষিজমি সংরক্ষণে সরকারি নির্দেশনা থাকলেও তা উপেক্ষা করেই চলছে মাটি কাটার কার্যক্রম। শুধু বাসুয়াড়ী নয়, সমগ্র বাঘারপাড়া এলাকায় মাটির ব্যবসা রমরমা আকারে চলছে। মাঝে মাঝে ইউএনও মহোদয় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও আবার আগের মতো চলমান থাকে তাদের কার্যক্রম।
মাটি কাটার বিষয়ে জমির মালিক রবিউল ইসলাম রবি’র নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি নিজের জমি খনন করছেন এবং জমির খাজনাও নিজেই পরিশোধ করেন। তাই এ কাজে কারও অনুমতির প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন না।
বাসুয়াড়ী ইউনিয়ন সহকারী (ভূমি) কর্মকর্তাকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, “কন্ট্রাক্টরের নম্বরটি আমাকে পাঠান। আমি তাদের নিষেধ করব। পাশাপাশি তাদের ইউএনও স্যারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আসতে বলব।”
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, “আপনারা লিখিত অভিযোগ করুন। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এদিকে কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।























