ঢাকা ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo যশোরে বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা ঘিরে ইনভিজিলেটরদের ব্রিফিং Logo হামিদপুরে ডে-নাইট ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন Logo গাবুরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদে প্রার্থী আমিনুর রহমান Logo নড়াগাতী থানার নবাগত ওসির সঙ্গে কালিয়া প্রেসক্লাবের মতবিনিময় Logo দৌড়ে মোবাইল ছিনতাইকারী ধরলেন আনসার সদস্য Logo মানুষের ভালোবাসায় গাজীপুরে ইমদাদের গণসংযোগ শুরু Logo কেসিসি’র নির্মাণাধীন বর্জ্য রিসাইকিং প্লান্টের মেশিনারিজ পরীক্ষামূলক চালু Logo ঝিকরগাছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা Logo সাতক্ষীরায় ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন Logo চিতলমারীতে বিআরডিবি’র আয়োজনে কিশোরীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ

বেনাপোলে যুগ্ম-কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞার বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:২৪:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৮ বার পঠিত

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে একটি আমদানি চালান আটকে রাখাকে কেন্দ্র করে কাস্টমসের যুগ্ম-কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞার বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘসূত্রতা ও বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির কারণে আমদানিকারকদের মধ্যে বেনাপোল বন্দর ব্যবহারে অনাগ্রহ তৈরি হচ্ছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সরকারও রাজস্ব হারাতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।

তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযোগটি একতরফাভাবে দেখার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট চালানটি বর্তমানে পরীক্ষাধীন রয়েছে। চালানে ঘোষণাবহির্ভূত বা অতিরিক্ত কোনো পণ্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করতেই পরীক্ষা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাওল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল থেকে ঢাকার আহমেদ ট্রেডার্সের নামে চালানটি বেনাপোল বন্দরে আসে। চালানটির বিল অব এন্ট্রির তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর এবং প্যাকিং লিস্টের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এতে মোট ৫৭৯ প্যাকেজ পণ্য রয়েছে। নথিতে চালানটির নিট ওজন ২৮ হাজার ৩৩০ দশমিক ১০ কেজি এবং গ্রস ওজন ৩০ হাজার ৪৫৬ দশমিক ১০ কেজি উল্লেখ করা হয়েছে।

চালানে সিনথেটিক ফেব্রিকস, আর্টিফিশিয়াল ফ্লাওয়ার, ক্যাপাসিটর, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট, চুমকি-পুঁতি, চিরুনি, গ্রাস বিডস, হার্ডওয়্যার ব্রাশ, প্রিন্টিং ইঙ্ক, ইনভার্টার, আয়রন বার, জুয়েলারি পার্টস, জুট মিল পার্টস, কিচেনওয়্যার, লেস, নিট ফেব্রিকস, রেজিন, স্পেয়ার পার্টস, স্পোর্টস গুডস ও জিংক ইনগটসহ বিভিন্ন পণ্য থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে।

সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান আমিন উদ্দিন ট্রেডার্সের কর্মচারী তৌহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, চালানটি বেনাপোল বন্দরে পৌঁছানোর পর কাস্টমসের পক্ষ থেকে আটকে রেখে কার্টন কাটাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে পণ্যের প্যাকেজিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আমদানিকারকের সঙ্গে তাঁদের ব্যবসায়িক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তৌহিদুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, এ ধরনের দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানির কারণে অনেক ব্যবসায়ী বেনাপোলের পরিবর্তে অন্য বন্দর দিয়ে আমদানি কার্যক্রম পরিচালনার কথা ভাবছেন। এতে বেনাপোলকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চালানটিতে ঘোষণাবহির্ভূত বা অতিরিক্ত কোনো পণ্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করতেই পরীক্ষার আওতায় নেওয়া হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বেনাপোল বন্দরের ৪১ নম্বর শেডে চালানটি সাময়িকভাবে আটকে পরীক্ষা শুরু করা হয়।

কাস্টমসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেনাপোল বন্দর দিয়ে যাতে কেউ সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পণ্য খালাস করতে না পারে, সে বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নজরদারি করছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, রাজস্ব ফাঁকি বা ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য শনাক্তের জন্য পরীক্ষা প্রয়োজন। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় যেন বৈধ ব্যবসায়ীরা অযথা হয়রানি বা দীর্ঘসূত্রতার শিকার না হন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত বিষয়টি পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

চালানটির পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পরই এতে ঘোষণাবহির্ভূত বা অতিরিক্ত কোনো পণ্য রয়েছে কি না, কিংবা কাস্টমস নথির সঙ্গে পণ্যের কোনো অমিল আছে কি না—তা স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত হয়রানির অভিযোগেরও যথাযথ তদন্ত এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :

বেনাপোলে যুগ্ম-কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞার বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:২৪:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে একটি আমদানি চালান আটকে রাখাকে কেন্দ্র করে কাস্টমসের যুগ্ম-কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞার বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘসূত্রতা ও বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির কারণে আমদানিকারকদের মধ্যে বেনাপোল বন্দর ব্যবহারে অনাগ্রহ তৈরি হচ্ছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সরকারও রাজস্ব হারাতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।

তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযোগটি একতরফাভাবে দেখার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট চালানটি বর্তমানে পরীক্ষাধীন রয়েছে। চালানে ঘোষণাবহির্ভূত বা অতিরিক্ত কোনো পণ্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করতেই পরীক্ষা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাওল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল থেকে ঢাকার আহমেদ ট্রেডার্সের নামে চালানটি বেনাপোল বন্দরে আসে। চালানটির বিল অব এন্ট্রির তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর এবং প্যাকিং লিস্টের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এতে মোট ৫৭৯ প্যাকেজ পণ্য রয়েছে। নথিতে চালানটির নিট ওজন ২৮ হাজার ৩৩০ দশমিক ১০ কেজি এবং গ্রস ওজন ৩০ হাজার ৪৫৬ দশমিক ১০ কেজি উল্লেখ করা হয়েছে।

চালানে সিনথেটিক ফেব্রিকস, আর্টিফিশিয়াল ফ্লাওয়ার, ক্যাপাসিটর, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট, চুমকি-পুঁতি, চিরুনি, গ্রাস বিডস, হার্ডওয়্যার ব্রাশ, প্রিন্টিং ইঙ্ক, ইনভার্টার, আয়রন বার, জুয়েলারি পার্টস, জুট মিল পার্টস, কিচেনওয়্যার, লেস, নিট ফেব্রিকস, রেজিন, স্পেয়ার পার্টস, স্পোর্টস গুডস ও জিংক ইনগটসহ বিভিন্ন পণ্য থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে।

সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান আমিন উদ্দিন ট্রেডার্সের কর্মচারী তৌহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, চালানটি বেনাপোল বন্দরে পৌঁছানোর পর কাস্টমসের পক্ষ থেকে আটকে রেখে কার্টন কাটাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে পণ্যের প্যাকেজিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আমদানিকারকের সঙ্গে তাঁদের ব্যবসায়িক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তৌহিদুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, এ ধরনের দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানির কারণে অনেক ব্যবসায়ী বেনাপোলের পরিবর্তে অন্য বন্দর দিয়ে আমদানি কার্যক্রম পরিচালনার কথা ভাবছেন। এতে বেনাপোলকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চালানটিতে ঘোষণাবহির্ভূত বা অতিরিক্ত কোনো পণ্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করতেই পরীক্ষার আওতায় নেওয়া হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বেনাপোল বন্দরের ৪১ নম্বর শেডে চালানটি সাময়িকভাবে আটকে পরীক্ষা শুরু করা হয়।

কাস্টমসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেনাপোল বন্দর দিয়ে যাতে কেউ সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পণ্য খালাস করতে না পারে, সে বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নজরদারি করছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, রাজস্ব ফাঁকি বা ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য শনাক্তের জন্য পরীক্ষা প্রয়োজন। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় যেন বৈধ ব্যবসায়ীরা অযথা হয়রানি বা দীর্ঘসূত্রতার শিকার না হন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত বিষয়টি পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

চালানটির পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পরই এতে ঘোষণাবহির্ভূত বা অতিরিক্ত কোনো পণ্য রয়েছে কি না, কিংবা কাস্টমস নথির সঙ্গে পণ্যের কোনো অমিল আছে কি না—তা স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত হয়রানির অভিযোগেরও যথাযথ তদন্ত এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।