ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে বিএনপি’—গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, “আওয়ামী লীগ আমলে দলীয়করণের নজির আমরা দেখেছি। কিন্তু এখন আরও বেশি দেখছি। স্থানীয় সরকার বিভাগের সব নিয়মকে তোয়াক্কা না করে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ এমনকি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষেও প্রশাসক বসিয়ে দলীয়করণের নজির স্থাপন করা হয়েছে। এখন তো দেখছি বিএনপির স্লোগান পরিবর্তন করা উচিত। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নয়, ‘সবার আগে বিএনপি’ স্লোগান হওয়া উচিত।”

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ২০ জুন খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ উপলক্ষে এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, একচ্ছত্র দলীয়করণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এসব বিষয় তুলে ধরতেই বিভাগীয় মহাসমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে রাজনৈতিক বিতর্কের নিষ্পত্তি সংসদে হওয়া উচিত। তা না হলে রাজপথেই এর ফয়সালা হবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশের পর ঢাকায় ১১ দলের জরুরি বৈঠকে পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “আমরা রাজপথে নামতে চাই না, সংসদেই সবকিছুর সমাধান চাই। কিন্তু সরকার বাধ্য করলে রাজপথই হবে চূড়ান্ত জায়গা। কারণ প্রেম তো একতরফা হয় না।”

সীমান্তে পুশইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংসদে একজন সংসদ সদস্য নোটিশ দিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়েছে। এতে অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, তরুণ প্রজন্মের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল। সেই লক্ষ্যেই বিএনপি, জামায়াতসহ ৩৩টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ আলোচনা শেষে ৮৪টি সাংবিধানিক, আইনি ও প্রশাসনিক বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছে ‘জুলাই সনদ’ তৈরি করে। পরবর্তীতে গণভোটে জনগণ এ সনদের পক্ষে রায় দিলেও ক্ষমতায় আসার পর সরকার তার অবস্থান থেকে সরে এসেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্যাস, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে। হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে চাঁদাবাজি, হত্যা, ধর্ষণ ও সহিংসতা বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন সভাপতিত্ব করেন। পরিচালনা করেন সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ আলম।

এ সময় সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, খুলনা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, জাতীয় নাগরিক পার্টির মহানগর সংগঠক আহম্মদ হামিম রাহাতসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস ব্রিফিং শেষে গোলাম পরওয়ার ও ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশের লিফলেট বিতরণ করেন এবং সার্কিট হাউস ময়দানে নির্মাণাধীন সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে বিএনপি’—গোলাম পরওয়ার

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, “আওয়ামী লীগ আমলে দলীয়করণের নজির আমরা দেখেছি। কিন্তু এখন আরও বেশি দেখছি। স্থানীয় সরকার বিভাগের সব নিয়মকে তোয়াক্কা না করে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ এমনকি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষেও প্রশাসক বসিয়ে দলীয়করণের নজির স্থাপন করা হয়েছে। এখন তো দেখছি বিএনপির স্লোগান পরিবর্তন করা উচিত। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নয়, ‘সবার আগে বিএনপি’ স্লোগান হওয়া উচিত।”

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ২০ জুন খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ উপলক্ষে এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, একচ্ছত্র দলীয়করণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এসব বিষয় তুলে ধরতেই বিভাগীয় মহাসমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে রাজনৈতিক বিতর্কের নিষ্পত্তি সংসদে হওয়া উচিত। তা না হলে রাজপথেই এর ফয়সালা হবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশের পর ঢাকায় ১১ দলের জরুরি বৈঠকে পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “আমরা রাজপথে নামতে চাই না, সংসদেই সবকিছুর সমাধান চাই। কিন্তু সরকার বাধ্য করলে রাজপথই হবে চূড়ান্ত জায়গা। কারণ প্রেম তো একতরফা হয় না।”

সীমান্তে পুশইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংসদে একজন সংসদ সদস্য নোটিশ দিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়েছে। এতে অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, তরুণ প্রজন্মের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল। সেই লক্ষ্যেই বিএনপি, জামায়াতসহ ৩৩টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ আলোচনা শেষে ৮৪টি সাংবিধানিক, আইনি ও প্রশাসনিক বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছে ‘জুলাই সনদ’ তৈরি করে। পরবর্তীতে গণভোটে জনগণ এ সনদের পক্ষে রায় দিলেও ক্ষমতায় আসার পর সরকার তার অবস্থান থেকে সরে এসেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্যাস, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে। হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে চাঁদাবাজি, হত্যা, ধর্ষণ ও সহিংসতা বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন সভাপতিত্ব করেন। পরিচালনা করেন সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ আলম।

এ সময় সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, খুলনা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, জাতীয় নাগরিক পার্টির মহানগর সংগঠক আহম্মদ হামিম রাহাতসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস ব্রিফিং শেষে গোলাম পরওয়ার ও ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশের লিফলেট বিতরণ করেন এবং সার্কিট হাউস ময়দানে নির্মাণাধীন সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন।