ঢাকা ০৩:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরে ঐতিহ্য রক্ষায় ২০ লাখ খেজুর বীজ বপন কর্মসূচির উদ্বোধন

যশোরে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড়ের সংস্কৃতি পুনরুদ্ধারে শুরু হয়েছে বৃহৎ আকারের খেজুর বীজ বপন কর্মসূচি। জেলার খেজুরগাছ সংরক্ষণ ও সংখ্যা বৃদ্ধি করতে প্রায় ২০ লাখ খেজুর বীজ বপনের উদ্যোগ নিয়েছে সামাজিক সংগঠন ‘উদ্যাম’।

যশোর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগিতায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয় সদর উপজেলার কনেজপুর ও নিমতলা সড়কের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকায়।

সোমবার (৮ জুন) এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন দেশসেরা কৃষি কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল রানা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাপস কুমার চক্রবর্তী, উদ্যামের আহ্বায়ক রিশাদ হাসান বিপ্পি, সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দিলসানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আয়োজকরা জানান, দুই সপ্তাহব্যাপী এ কর্মসূচির আওতায় জেলার বিভিন্ন সরকারি পতিত জমি ও সড়কের দুই পাশে খেজুর বীজ বপন করা হবে। এর মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, খেজুরগাছের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড়ের উৎপাদন পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে উদ্যামের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দিলসান বলেন, আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে খেজুরগাছ ও গাছি। গত পাঁচ বছরে জেলায় প্রায় ৫০ হাজার খেজুরগাছ এবং প্রায় দেড় হাজার গাছি কমে গেছে। এতে বছরে প্রায় ৫৫ লাখ লিটার খেজুরের রস উৎপাদন কমেছে, ফলে ঐতিহ্যবাহী রস ও গুড় ক্রমেই দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, খেজুরগাছ শুধু একটি গাছ নয়, এটি যশোরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এই ঐতিহ্য রক্ষায় ব্যাপকভাবে খেজুর বীজ বপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ সফল হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে জেলায় খেজুরগাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং খেজুরের রস ও গুড়ের উৎপাদন আবারও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে ঐতিহ্য রক্ষায় ২০ লাখ খেজুর বীজ বপন কর্মসূচির উদ্বোধন

আপডেট সময় : ০৮:৩৮:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

যশোরে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড়ের সংস্কৃতি পুনরুদ্ধারে শুরু হয়েছে বৃহৎ আকারের খেজুর বীজ বপন কর্মসূচি। জেলার খেজুরগাছ সংরক্ষণ ও সংখ্যা বৃদ্ধি করতে প্রায় ২০ লাখ খেজুর বীজ বপনের উদ্যোগ নিয়েছে সামাজিক সংগঠন ‘উদ্যাম’।

যশোর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগিতায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয় সদর উপজেলার কনেজপুর ও নিমতলা সড়কের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকায়।

সোমবার (৮ জুন) এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন দেশসেরা কৃষি কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল রানা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাপস কুমার চক্রবর্তী, উদ্যামের আহ্বায়ক রিশাদ হাসান বিপ্পি, সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দিলসানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আয়োজকরা জানান, দুই সপ্তাহব্যাপী এ কর্মসূচির আওতায় জেলার বিভিন্ন সরকারি পতিত জমি ও সড়কের দুই পাশে খেজুর বীজ বপন করা হবে। এর মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, খেজুরগাছের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড়ের উৎপাদন পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে উদ্যামের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দিলসান বলেন, আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে খেজুরগাছ ও গাছি। গত পাঁচ বছরে জেলায় প্রায় ৫০ হাজার খেজুরগাছ এবং প্রায় দেড় হাজার গাছি কমে গেছে। এতে বছরে প্রায় ৫৫ লাখ লিটার খেজুরের রস উৎপাদন কমেছে, ফলে ঐতিহ্যবাহী রস ও গুড় ক্রমেই দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, খেজুরগাছ শুধু একটি গাছ নয়, এটি যশোরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এই ঐতিহ্য রক্ষায় ব্যাপকভাবে খেজুর বীজ বপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ সফল হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে জেলায় খেজুরগাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং খেজুরের রস ও গুড়ের উৎপাদন আবারও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।