বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে
যশোরে স্বেচ্ছাসেবক দলের গণসমাবেশে জনতার ঢল
- আপডেট সময় : ০৯:০৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
- / ২০ বার পঠিত

গণহত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে যশোরে গণসমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে যশোর শহরের চৌরাস্তা মোড়ে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, ‘আজ যারা হুমকি দিচ্ছেন, তাদের পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই—জাতীয়তাবাদী দল কোনো হুমকিতে ভয় পায় না। আমাদের হুমকি দিয়ে লাভ নেই। আমরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে জানি।’
তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ধ্বংসাত্মক পথ ছেড়ে গঠনমূলক রাজনীতিতে আসুন। আমরা রাষ্ট্রকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাই। তবে মনে রাখতে হবে, আমাদের কাছে এমন কোনো আলাদিনের চেরাগ নেই, যা ঘষে দিলেই রাতারাতি সবকিছু বদলে যাবে।’
নার্গিস বেগম বলেন, দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা ও অস্থিরতা দূর করতে সময় লাগবে। গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্তদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। তবে সেই বিচার হতে হবে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী, যাতে ভবিষ্যতে এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী এমপি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কখনো দেশ ছেড়ে যাননি; বরং শেষ পর্যন্ত দেশের মাটিতেই ছিলেন। তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন রাজনৈতিক অভিযোগের সমালোচনা করে বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ইতিবাচক ও সহনশীল রাজনীতিতে বিশ্বাস করে বলেও তিনি দাবি করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিতে পারা এবং শেখ হাসিনার পতন প্রত্যক্ষ করা তাঁদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ দেখতে চায় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্র আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে যশোরের বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সুযোগ দিতে হবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
সমাবেশে জেলা আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
এ সময় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, জেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনছারুল হক রানা, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পীসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাজিদুর রহমান সাগর।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন থেকে মিছিল নিয়ে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। দিনভর স্লোগানে মুখর ছিল চৌরাস্তা এলাকা। পরে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ হয়।




















