বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে থলের বিড়াল
যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়াকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১০:২৭:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৯ বার পঠিত

যশোরের বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়াকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ উঠেছে। সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) আরমান হোসেনকে মারধর, ব্যবসায়ীদের হয়রানি এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টির অভিযোগে কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়ে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ৪১ নম্বর শেডের ভেতরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরমান হোসেনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়ার বিরুদ্ধে।
কাস্টমস-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এক সহকারীর মাধ্যমে আরমান হোসেনকে ওই শেডে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অধস্তন কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও পর্যালোচনা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীর অভিযোগ যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মারধরের অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশের ভূমিকা নিয়েও ইতিমধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কতিপয় সাংবাদিক যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়ার কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাঁর পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে লেনদেনের কোন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়াকে ঘিরে ব্যবসায়ী মহলেও অসন্তোষের অভিযোগ রয়েছে। বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, হয়রানি, অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও অসহযোগিতার কারণে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনায় তাঁদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
বাধ্য হয়ে তারা অন্য বন্দরের দিকে ঝুকছেন এবং বিকল্প বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির চিন্তা ভাবনা করছেন। দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসায়ীরা বিকল্প বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হলে বেনাপোলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং সরকারের রাজস্ব আহরণেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও রাজস্ব আহরণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই এ বন্দরের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, ব্যবসায়ীদের হয়রানিমুক্ত সেবা এবং কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশা।























