ঢাকা ০৭:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo উন্নয়ন ও জনসেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে মাহবুর রহমান মালেক Logo ঝিকরগাছায় দৈনিক রানারের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত Logo নদীভাঙনে বিলীন দোকানপাট ও গুদামঘর, ১৬ ব্যবসায়ীকে প্রণোদনা Logo ডুমুরিয়ায় বরফ কল দেখিয়ে সারের ডিলার নিয়োগ! Logo সংস্কারের অভাবে বেহাল সৌম্য-মোস্তাফিজের স্মৃতিবিজড়িত মাঠ Logo মনিরামপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে কামরুজ্জামানকে কুপিয়ে জখম Logo ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন গণিত শিক্ষক সোহরাব উদ্দিন Logo রাইস ট্রান্সপ্লান্টারে আধুনিক ধান চাষ: ডুমুরিয়ায় মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত Logo কেশবপুরে দরিদ্র নারী, অভিভাবক ও কিশোরীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ Logo টাকা চুরির অপবাদে সাজমীর হত্যা: এজাহারভুক্ত দুই আসামি গ্রেপ্তার

যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ হলো বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৫:২৪:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • / ১০১ বার পঠিত

ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে অনুষ্ঠিত ৫৭তম মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের চার দিনের সীমান্ত শীর্ষ বৈঠক যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি, অবৈধ অনুপ্রবেশ, সীমান্তে গুলি চালানো এবং ‘পুশইন’সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও বৈঠক শেষে দুই বাহিনীর প্রধানরা প্রথা অনুযায়ী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেননি।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, গত সোমবার বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মহম্মদ আশরাফুজ্জামান-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লিতে পৌঁছায়। পরে বিএসএফের মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার-এর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার নয়াদিল্লির বিএসএফ সদর দপ্তর-এ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ভারত-বাংলাদেশের ৫৭তম সীমান্ত শীর্ষ বৈঠক। বৈঠক শেষে যৌথ আলোচনার নথিতে স্বাক্ষর করা হলেও নজিরবিহীনভাবে কোনো যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে একটি যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ইতিহাসে এই প্রথম যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই বৈঠক শেষ হলো। এর আগে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ঢাকায় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সীমান্তে বিএসএফের গুলি চালানো এবং কথিত ‘পুশইন’ ইস্যু বিজিবি বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করবে।

প্রসঙ্গত, বিজিবি-বিএসএফ ডিজি পর্যায়ের সীমান্ত বৈঠক ১৯৭৫ সাল থেকে শুরু হয়। ১৯৯৩ সাল থেকে বছরে দুইবার ঢাকায় ও নয়াদিল্লিতে পর্যায়ক্রমে এ বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৫ সালের আগস্টে ঢাকায়।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার পশ্চিমবঙ্গ অংশে অবস্থিত। সীমান্তের প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার এলাকায় এখনও কাঁটাতারের বেড়া নির্মিত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সীমান্ত পরিস্থিতি ও বিভিন্ন সংবেদনশীল ইস্যুর প্রেক্ষাপটে এবারের বৈঠক ছিল বিশেষ গুরুত্ববহ। তবে যৌথ সংবাদ সম্মেলন না হওয়ায় বৈঠকের ফলাফল ও আলোচনার বিস্তারিত বিষয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

ট্যাগস :

যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ হলো বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক

আপডেট সময় : ০৫:২৪:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে অনুষ্ঠিত ৫৭তম মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের চার দিনের সীমান্ত শীর্ষ বৈঠক যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি, অবৈধ অনুপ্রবেশ, সীমান্তে গুলি চালানো এবং ‘পুশইন’সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও বৈঠক শেষে দুই বাহিনীর প্রধানরা প্রথা অনুযায়ী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেননি।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, গত সোমবার বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মহম্মদ আশরাফুজ্জামান-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লিতে পৌঁছায়। পরে বিএসএফের মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার-এর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার নয়াদিল্লির বিএসএফ সদর দপ্তর-এ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ভারত-বাংলাদেশের ৫৭তম সীমান্ত শীর্ষ বৈঠক। বৈঠক শেষে যৌথ আলোচনার নথিতে স্বাক্ষর করা হলেও নজিরবিহীনভাবে কোনো যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে একটি যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ইতিহাসে এই প্রথম যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই বৈঠক শেষ হলো। এর আগে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ঢাকায় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সীমান্তে বিএসএফের গুলি চালানো এবং কথিত ‘পুশইন’ ইস্যু বিজিবি বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করবে।

প্রসঙ্গত, বিজিবি-বিএসএফ ডিজি পর্যায়ের সীমান্ত বৈঠক ১৯৭৫ সাল থেকে শুরু হয়। ১৯৯৩ সাল থেকে বছরে দুইবার ঢাকায় ও নয়াদিল্লিতে পর্যায়ক্রমে এ বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৫ সালের আগস্টে ঢাকায়।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার পশ্চিমবঙ্গ অংশে অবস্থিত। সীমান্তের প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার এলাকায় এখনও কাঁটাতারের বেড়া নির্মিত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সীমান্ত পরিস্থিতি ও বিভিন্ন সংবেদনশীল ইস্যুর প্রেক্ষাপটে এবারের বৈঠক ছিল বিশেষ গুরুত্ববহ। তবে যৌথ সংবাদ সম্মেলন না হওয়ায় বৈঠকের ফলাফল ও আলোচনার বিস্তারিত বিষয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।