ঢাকা ১০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নারীকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ

রাতের আঁধারে টিনের বেড়া দিয়ে ৪০ বছরের চলাচলের পথ বন্ধ

প্রিন্স হালদার, চিতলমারী (বাগেরহাট)
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৬:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৩০ বার পঠিত

বাগেরহাটের চিতলমারীতে প্রায় ৪০ বছর ধরে ব্যবহার করে আসা একটি পরিবারের চলাচলের পথ রাতের আঁধারে টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এতে আজগর আলী মৃধা নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। একই ঘটনায় সুফিয়া বেগম নামে এক নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের পরানপুর পূর্বপাড়ায়।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ১২ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ওবায়দুর মৃধা, বক্কর মৃধা, হাবিব মৃধা, জোবায়ের মৃধা ও এবাদুল মৃধাসহ কয়েকজন লোকজন নিয়ে তাদের বাড়ির সামনে আসেন। তাদের সঙ্গে আরও লোকজন ছিল বলেও দাবি পরিবারের।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাতের আঁধারে টিন ও বেড়া দিয়ে বাড়ির সামনের জায়গা ঘিরে ফেলার চেষ্টা করা হলে পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। এ সময় বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন তারা।

আজগর আলী মৃধা বলেন, বেড়া দেওয়ার প্রতিবাদ করলে জোবায়ের মৃধা তাকে ধারালো ‘বেকা দা’ দিয়ে আঘাত করেন। এতে তাঁর দুই হাতে জখম হয়। পরে তাকে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে একটি ক্ষতস্থানে পাঁচটি সেলাই দিতে হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

অন্যদিকে সুফিয়া বেগমের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে স্টিলের লাঠি দিয়ে মারধর করেন এবং তাঁর পরনের পোশাক টানাহেঁচড়া করা হয়। এ ঘটনায় থানায় গেলে বা মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আজগর আলী মৃধা ওই এলাকায় প্রথম বসতি স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় চার দশক ধরে তাঁরা ওই জায়গা ব্যবহার করছেন।

বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথটিও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছিল পরিবারটি। তবে সম্প্রতি ওই পথ ও জমির ব্যবহার নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গভীর রাতে পথটি বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

পরিবারের সদস্যরা বলছেন, জমির মালিকানা নিয়ে কারও দাবি থাকলে তারা আদালত বা সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের মাধ্যমে আইনগত সমাধান চান। কিন্তু রাতের আঁধারে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমিনুর রহমান ও মারুফ শিকদারসহ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

জানা গেছে, বাড়ির বাসিন্দাদের চলাচলের সুযোগ দিতে দুটি টিন খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় মিজান শেখ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদের গালিগালাজ করেন এবং কয়েকবার মারতে উদ্যত হন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মিজান শেখের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী পক্ষ জানায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর সুফিয়া বেগম তাঁর স্বামী নূরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে চিতলমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এর দুই দিন পর, ১২ সেপ্টেম্বর রাতে আবারও হামলা ও চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

এ কারণে থানায় আগে দেওয়া অভিযোগের পর পুলিশের পক্ষ থেকে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে জমির কাগজপত্র, দীর্ঘদিনের দখল ও ব্যবহার, চলাচলের পথের অবস্থান, বেড়া দেওয়ার বৈধতা, হামলার ঘটনা এবং থানায় আগে দেওয়া অভিযোগসহ বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে।

তাঁদের ভাষ্য, তাঁরা কারও জমি দখল করতে চান না। নিজেদের বসতবাড়িতে নিরাপদে বসবাস এবং বাড়ি থেকে বের হওয়ার চলাচলের পথটুকু নিশ্চিত করাই তাঁদের দাবি।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে আমরা এখানে আছি। হঠাৎ রাতের আঁধারে বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা বিপদে পড়েছি। আমরা কারও সঙ্গে সংঘাতে যেতে চাই না। প্রশাসনের কাছে ন্যায়সঙ্গত সমাধান চাই।

স্থানীয়দের মতে, বিরোধটি দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে উভয় পক্ষের মধ্যে আরও উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ট্যাগস :

নারীকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ

রাতের আঁধারে টিনের বেড়া দিয়ে ৪০ বছরের চলাচলের পথ বন্ধ

আপডেট সময় : ০৬:৫৬:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাগেরহাটের চিতলমারীতে প্রায় ৪০ বছর ধরে ব্যবহার করে আসা একটি পরিবারের চলাচলের পথ রাতের আঁধারে টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এতে আজগর আলী মৃধা নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। একই ঘটনায় সুফিয়া বেগম নামে এক নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের পরানপুর পূর্বপাড়ায়।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ১২ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ওবায়দুর মৃধা, বক্কর মৃধা, হাবিব মৃধা, জোবায়ের মৃধা ও এবাদুল মৃধাসহ কয়েকজন লোকজন নিয়ে তাদের বাড়ির সামনে আসেন। তাদের সঙ্গে আরও লোকজন ছিল বলেও দাবি পরিবারের।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাতের আঁধারে টিন ও বেড়া দিয়ে বাড়ির সামনের জায়গা ঘিরে ফেলার চেষ্টা করা হলে পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। এ সময় বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন তারা।

আজগর আলী মৃধা বলেন, বেড়া দেওয়ার প্রতিবাদ করলে জোবায়ের মৃধা তাকে ধারালো ‘বেকা দা’ দিয়ে আঘাত করেন। এতে তাঁর দুই হাতে জখম হয়। পরে তাকে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে একটি ক্ষতস্থানে পাঁচটি সেলাই দিতে হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

অন্যদিকে সুফিয়া বেগমের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে স্টিলের লাঠি দিয়ে মারধর করেন এবং তাঁর পরনের পোশাক টানাহেঁচড়া করা হয়। এ ঘটনায় থানায় গেলে বা মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আজগর আলী মৃধা ওই এলাকায় প্রথম বসতি স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় চার দশক ধরে তাঁরা ওই জায়গা ব্যবহার করছেন।

বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথটিও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছিল পরিবারটি। তবে সম্প্রতি ওই পথ ও জমির ব্যবহার নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গভীর রাতে পথটি বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

পরিবারের সদস্যরা বলছেন, জমির মালিকানা নিয়ে কারও দাবি থাকলে তারা আদালত বা সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের মাধ্যমে আইনগত সমাধান চান। কিন্তু রাতের আঁধারে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমিনুর রহমান ও মারুফ শিকদারসহ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

জানা গেছে, বাড়ির বাসিন্দাদের চলাচলের সুযোগ দিতে দুটি টিন খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় মিজান শেখ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদের গালিগালাজ করেন এবং কয়েকবার মারতে উদ্যত হন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মিজান শেখের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী পক্ষ জানায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর সুফিয়া বেগম তাঁর স্বামী নূরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে চিতলমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এর দুই দিন পর, ১২ সেপ্টেম্বর রাতে আবারও হামলা ও চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

এ কারণে থানায় আগে দেওয়া অভিযোগের পর পুলিশের পক্ষ থেকে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে জমির কাগজপত্র, দীর্ঘদিনের দখল ও ব্যবহার, চলাচলের পথের অবস্থান, বেড়া দেওয়ার বৈধতা, হামলার ঘটনা এবং থানায় আগে দেওয়া অভিযোগসহ বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে।

তাঁদের ভাষ্য, তাঁরা কারও জমি দখল করতে চান না। নিজেদের বসতবাড়িতে নিরাপদে বসবাস এবং বাড়ি থেকে বের হওয়ার চলাচলের পথটুকু নিশ্চিত করাই তাঁদের দাবি।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে আমরা এখানে আছি। হঠাৎ রাতের আঁধারে বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা বিপদে পড়েছি। আমরা কারও সঙ্গে সংঘাতে যেতে চাই না। প্রশাসনের কাছে ন্যায়সঙ্গত সমাধান চাই।

স্থানীয়দের মতে, বিরোধটি দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে উভয় পক্ষের মধ্যে আরও উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।