ঢাকা ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কার্যকরের অপেক্ষায় গোটা দেশ

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্না’র মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, জবানবন্দি ও অন্যান্য উপস্থাপিত তথ্য পর্যালোচনায় প্রমাণিত হয়েছে যে, সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। তিনি নিজের জবানবন্দিতে অপরাধের দায় স্বীকারও করেছেন। অপরদিকে, স্বপ্না খাতুন ঘটনার পর তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন। আদালতের মতে, উভয় আসামি একই অপরাধে সম্পৃক্ত এবং তাদের অপরাধের যথাযথ শাস্তি না হলে বিচারব্যবস্থার উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে রায়ের পর্যবেক্ষণ পাঠ করেন বিচারক। তিনি উল্লেখ করেন, আসামিদের অপরাধ সংশোধনযোগ্য নয় এবং তারা সর্বোচ্চ শাস্তির যোগ্য।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয় এবং পরে তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মামলার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করেন তিনি। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সোহেল রানার মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন জানান।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় প্রতিবেশী সোহেল রানার বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আট বছর বয়সী রামিসা আক্তারের শিরশ্ছেদ করা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন রামিসার বাবা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং ছয় দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে ১ জুন মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। ২ জুন রামিসার পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৬ জন সাক্ষ্য দেন। আলোচিত এ মামলাটি মাত্র চার কার্যদিবসে বিচার সম্পন্ন হওয়ায় দেশের বিচারিক ইতিহাসে অন্যতম দ্রুত নিষ্পত্তিকৃত ধর্ষণ ও হত্যা মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কার্যকরের অপেক্ষায় গোটা দেশ

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্না’র মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় : ০২:০৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, জবানবন্দি ও অন্যান্য উপস্থাপিত তথ্য পর্যালোচনায় প্রমাণিত হয়েছে যে, সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। তিনি নিজের জবানবন্দিতে অপরাধের দায় স্বীকারও করেছেন। অপরদিকে, স্বপ্না খাতুন ঘটনার পর তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন। আদালতের মতে, উভয় আসামি একই অপরাধে সম্পৃক্ত এবং তাদের অপরাধের যথাযথ শাস্তি না হলে বিচারব্যবস্থার উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে রায়ের পর্যবেক্ষণ পাঠ করেন বিচারক। তিনি উল্লেখ করেন, আসামিদের অপরাধ সংশোধনযোগ্য নয় এবং তারা সর্বোচ্চ শাস্তির যোগ্য।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয় এবং পরে তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মামলার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করেন তিনি। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সোহেল রানার মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন জানান।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় প্রতিবেশী সোহেল রানার বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আট বছর বয়সী রামিসা আক্তারের শিরশ্ছেদ করা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন রামিসার বাবা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং ছয় দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে ১ জুন মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। ২ জুন রামিসার পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৬ জন সাক্ষ্য দেন। আলোচিত এ মামলাটি মাত্র চার কার্যদিবসে বিচার সম্পন্ন হওয়ায় দেশের বিচারিক ইতিহাসে অন্যতম দ্রুত নিষ্পত্তিকৃত ধর্ষণ ও হত্যা মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।