রামিসা হত্যা মামলার রায় রবিবার
- আপডেট সময় : ০৬:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
- / ৭৮ বার পঠিত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে। মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের এ তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। এর আগে মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে টানা ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ওইদিন ভুক্তভোগী রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তারসহ বিভিন্ন সাক্ষীর জবানবন্দিতে ঘটনার ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক বর্ণনা উঠে আসে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৪ মে আদালত পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। তদন্তে ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, পল্লবীর পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল রামিসা। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না কৌশলে তাকে নিজের বাসায় নিয়ে যায়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার জন্য মেয়েকে খুঁজতে শুরু করেন তার মা।
একপর্যায়ে আসামিদের বাসার সামনে রামিসার একটি স্যান্ডেল দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তারা সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ দেখতে পান। পরে বাথরুমের একটি বড় বালতির ভেতর থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর গত ২০ মে আদালতে হাজির হয়ে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। দেশজুড়ে আলোচিত এই মামলার রায়ের দিকে এখন তাকিয়ে আছে রামিসার পরিবারসহ সাধারণ মানুষ।























