ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সকাল-সন্ধ্যা ঢাকা-যশোর ট্রেনের দাবিতে ফের আন্দোলনে যশোরবাসী

যশোর দর্পণ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:২৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / ৩৯ বার পঠিত

‘পান্তা খেয়ে ঢাকায় যাই, রাতে বাড়ি ফিরতে চাই’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে সকাল-সন্ধ্যা ঢাকা-যশোর ট্রেন চালুসহ ছয় দফা দাবিতে ফের আন্দোলনে নামছে যশোরবাসী। দাবি আদায়ে আগামী সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ১টায় যশোর রেলওয়ে জংশনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন সংগঠনের সদস্য সচিব প্রকৌশলী রুহুল আমিন। তিনি বলেন, রেল যোগাযোগের উন্নয়নে তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলী রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, ‘ঢাকা-যশোর পদ্মা সেতু রেল প্রকল্প’ শুরু থেকেই যশোরবাসী বঞ্চনার শিকার। প্রকল্পের নাম যশোরের নামে হলেও মূল শহরকে রেল সুবিধার বাইরে রেখে যাত্রীদের প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের পদ্মবিলা স্টেশন থেকে ট্রেন ধরার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আন্দোলনের ফলে যশোর থেকে একটি ট্রেন চালু হলেও তা যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী সময়সূচিতে নয়।

তিনি বলেন, প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার এই রেল প্রকল্পে দিনে মাত্র একটি ট্রেনের যাতায়াত রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করছে না। তাই যশোর থেকে ভোরে ঢাকাগামী একটি ‘প্রভাতী’ আন্তঃনগর ট্রেন এবং সন্ধ্যায় ঢাকায় কর্মশেষে যশোরে ফেরার উপযোগী একটি ট্রেন চালুর দাবি দীর্ঘদিনের।

সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— বেনাপোল/দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে একটি প্রভাতী আন্তঃনগর ট্রেনসহ মোট তিনটি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু, সব আন্তঃনগর ট্রেনে পর্যাপ্ত সাধারণ বগি সংযোজন, দর্শনা-খুলনা ও বেনাপোল-যশোর রুটে দ্রুত ডাবল রেললাইন নির্মাণ, সীমান্ত থেকে যশোর-ঢাকা রুটে নিয়মিত কমিউটার ট্রেন চালু, সিঙ্গিয়া রেলস্টেশনে রেল কনটেইনার টার্মিনাল স্থাপন এবং রেলকে দেশের প্রধান গণপরিবহন হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।

প্রকৌশলী রুহুল আমিন জানান, ২০২৩ সাল থেকে তারা এ দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন, বিক্ষোভ, রেল অবরোধ, কালো পতাকা প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। রেল কর্তৃপক্ষ মার্চ-এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। জুন মাসের আলটিমেটামও উপেক্ষিত হওয়ায় ৬ জুলাই যশোর রেলওয়ে জংশনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় হকি কোচ কাওসার আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান ভিটু, যুগ্ম সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান মিলন, হারুন অর রশিদ, নাজিমউদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন দোদুল, অ্যাডভোকেট আবুল কায়েস, অধ্যক্ষ শাহিন ইকবাল, যোগেশ দত্ত, শেখ আলাউদ্দিন, পলাশ বিশ্বাস, শরীফ আহমেদ বাপী, সাহাবুদ্দিন বাটুল, মশিয়ার রহমানসহ কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগস :

সকাল-সন্ধ্যা ঢাকা-যশোর ট্রেনের দাবিতে ফের আন্দোলনে যশোরবাসী

আপডেট সময় : ০৫:২৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

‘পান্তা খেয়ে ঢাকায় যাই, রাতে বাড়ি ফিরতে চাই’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে সকাল-সন্ধ্যা ঢাকা-যশোর ট্রেন চালুসহ ছয় দফা দাবিতে ফের আন্দোলনে নামছে যশোরবাসী। দাবি আদায়ে আগামী সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ১টায় যশোর রেলওয়ে জংশনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন সংগঠনের সদস্য সচিব প্রকৌশলী রুহুল আমিন। তিনি বলেন, রেল যোগাযোগের উন্নয়নে তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলী রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, ‘ঢাকা-যশোর পদ্মা সেতু রেল প্রকল্প’ শুরু থেকেই যশোরবাসী বঞ্চনার শিকার। প্রকল্পের নাম যশোরের নামে হলেও মূল শহরকে রেল সুবিধার বাইরে রেখে যাত্রীদের প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের পদ্মবিলা স্টেশন থেকে ট্রেন ধরার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আন্দোলনের ফলে যশোর থেকে একটি ট্রেন চালু হলেও তা যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী সময়সূচিতে নয়।

তিনি বলেন, প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার এই রেল প্রকল্পে দিনে মাত্র একটি ট্রেনের যাতায়াত রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করছে না। তাই যশোর থেকে ভোরে ঢাকাগামী একটি ‘প্রভাতী’ আন্তঃনগর ট্রেন এবং সন্ধ্যায় ঢাকায় কর্মশেষে যশোরে ফেরার উপযোগী একটি ট্রেন চালুর দাবি দীর্ঘদিনের।

সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— বেনাপোল/দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে একটি প্রভাতী আন্তঃনগর ট্রেনসহ মোট তিনটি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু, সব আন্তঃনগর ট্রেনে পর্যাপ্ত সাধারণ বগি সংযোজন, দর্শনা-খুলনা ও বেনাপোল-যশোর রুটে দ্রুত ডাবল রেললাইন নির্মাণ, সীমান্ত থেকে যশোর-ঢাকা রুটে নিয়মিত কমিউটার ট্রেন চালু, সিঙ্গিয়া রেলস্টেশনে রেল কনটেইনার টার্মিনাল স্থাপন এবং রেলকে দেশের প্রধান গণপরিবহন হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।

প্রকৌশলী রুহুল আমিন জানান, ২০২৩ সাল থেকে তারা এ দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন, বিক্ষোভ, রেল অবরোধ, কালো পতাকা প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। রেল কর্তৃপক্ষ মার্চ-এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। জুন মাসের আলটিমেটামও উপেক্ষিত হওয়ায় ৬ জুলাই যশোর রেলওয়ে জংশনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় হকি কোচ কাওসার আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান ভিটু, যুগ্ম সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান মিলন, হারুন অর রশিদ, নাজিমউদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন দোদুল, অ্যাডভোকেট আবুল কায়েস, অধ্যক্ষ শাহিন ইকবাল, যোগেশ দত্ত, শেখ আলাউদ্দিন, পলাশ বিশ্বাস, শরীফ আহমেদ বাপী, সাহাবুদ্দিন বাটুল, মশিয়ার রহমানসহ কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।