ঢাকা ০৩:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সম্পদের নতুন রেকর্ডে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মাস্ক

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আলোচিত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তার মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের রেকর্ড ৭৫ বিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি (আইপিও) এই ঐতিহাসিক অর্জনের পথ আরও সুগম করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অনুষ্ঠিত স্পেসএক্সের আইপিওতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আসে। আইপিওর আগে ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৮০ বিলিয়ন ডলার। সে সময় বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ছিলেন গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ।

ফোর্বস ওয়েলথের ডেপুটি এডিটর ম্যাট ডুরোট বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তির সম্পদ যেখানে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি, সেখানে ইলন মাস্কের সম্পদ তার তিন গুণেরও বেশি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে কেবল ল্যারি এলিসনের সম্পদই ৪০০ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছিল। বর্তমানে মাস্কের সম্পদের সবচেয়ে বড় উৎস স্পেসএক্স। প্রতিষ্ঠানটিতে তার মালিকানাধীন শেয়ারের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮৬৬ বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা তার সম্পদের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা ও মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান ইলন মাস্ক। পরে ২০২২ সালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার—বর্তমান ‘এক্স’—৪৪ বিলিয়ন ডলারে অধিগ্রহণ করেন। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তিনি শত শত মিলিয়ন ব্যবহারকারীর কাছে সরাসরি পৌঁছানোর সুযোগ পান এবং রাজনীতি, অভিবাসন, সরকারি ব্যয় ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে আবির্ভূত হন।

সমর্থকদের কাছে মাস্কের খোলামেলা ও ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব তার জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। তবে সমালোচকদের মতে, তিনি ক্রমশ অতিরিক্ত ক্ষমতা ও প্রভাবের অধিকারী হয়ে উঠছেন। তার রাজনৈতিক অবস্থান ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিয়েও নিয়মিত বিতর্ক রয়েছে।

সব বিতর্কের মধ্যেও স্পেসএক্সের এই ঐতিহাসিক আইপিও বিনিয়োগকারীদের আস্থারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর মাধ্যমে সম্পদের দিক থেকে ইলন মাস্ক বিশ্ব ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ড গড়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন সম্ভাব্য ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পদের নতুন রেকর্ডে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মাস্ক

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আলোচিত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তার মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের রেকর্ড ৭৫ বিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি (আইপিও) এই ঐতিহাসিক অর্জনের পথ আরও সুগম করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অনুষ্ঠিত স্পেসএক্সের আইপিওতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আসে। আইপিওর আগে ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৮০ বিলিয়ন ডলার। সে সময় বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ছিলেন গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ।

ফোর্বস ওয়েলথের ডেপুটি এডিটর ম্যাট ডুরোট বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তির সম্পদ যেখানে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি, সেখানে ইলন মাস্কের সম্পদ তার তিন গুণেরও বেশি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে কেবল ল্যারি এলিসনের সম্পদই ৪০০ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছিল। বর্তমানে মাস্কের সম্পদের সবচেয়ে বড় উৎস স্পেসএক্স। প্রতিষ্ঠানটিতে তার মালিকানাধীন শেয়ারের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮৬৬ বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা তার সম্পদের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা ও মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান ইলন মাস্ক। পরে ২০২২ সালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার—বর্তমান ‘এক্স’—৪৪ বিলিয়ন ডলারে অধিগ্রহণ করেন। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তিনি শত শত মিলিয়ন ব্যবহারকারীর কাছে সরাসরি পৌঁছানোর সুযোগ পান এবং রাজনীতি, অভিবাসন, সরকারি ব্যয় ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে আবির্ভূত হন।

সমর্থকদের কাছে মাস্কের খোলামেলা ও ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব তার জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। তবে সমালোচকদের মতে, তিনি ক্রমশ অতিরিক্ত ক্ষমতা ও প্রভাবের অধিকারী হয়ে উঠছেন। তার রাজনৈতিক অবস্থান ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিয়েও নিয়মিত বিতর্ক রয়েছে।

সব বিতর্কের মধ্যেও স্পেসএক্সের এই ঐতিহাসিক আইপিও বিনিয়োগকারীদের আস্থারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর মাধ্যমে সম্পদের দিক থেকে ইলন মাস্ক বিশ্ব ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ড গড়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন সম্ভাব্য ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে।