ঢাকা ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কালিয়ায় উপজেলা ও পৌর কৃষক দলের মতবিনিময় সভা Logo যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়াকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ Logo রায়পুরে দুই সহস্রাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা Logo শিশু চিকিৎসা ও পুষ্টিসেবায় কাজ করছেন কেশবপুরের ডা. শাহীনুর Logo বাঘারপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে সভা Logo যশোরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ Logo শার্শায় বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল Logo শার্শার ৩২টি দুর্গাপূজা মণ্ডপে আর্থিক অনুদান দিলেন নুরুজ্জামান লিটন Logo নড়াইলে চার দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন বাগুডাঙ্গা Logo কেশবপুরে মোবাইল কোর্টের অভিযান, ছয়টি পাটা-বাঁধ উচ্ছেদ

তাজমিন হত্যাকান্ড নিয়ে যা বললেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

যশোর দর্পণ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:২০:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৮ বার পঠিত

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় সুমন (৩৫) নামে এক অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় সুমনের একক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পংকজ বড়ুয়া শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে সকালে সংবাদ সম্মেলনে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে কুমিল্লা নগরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় তাজমিনকে রেসকোর্স এলাকার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অটোরিকশায় তোলেন সুমন। পরে তাকে লালমাইয়ের একটি ফসলি জমিতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে গামছা গলায় পেঁচিয়ে ও মাথা চেপে ধরে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর তাজমিনের ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান সুমন। পরে স্থানীয় একটি পুকুরে গোসল করে বাখরাবাদ এলাকার একটি জঙ্গলে ফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান তিনি। শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদ এলাকার জঙ্গল থেকে তাজমিনের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে ঘরজামাই হিসেবে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে বসবাস শুরু করেন তিনি।

এর আগে অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিক আবুল হাসেমকে শনাক্ত করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চালক হিসেবে সুমনের নাম জানান তিনি। পরে সুমনকে গ্রেপ্তার করে কুমিল্লায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে কুমিল্লা নগরের ফরিদা বিদ্যায়তন উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির অনিয়মিত ছাত্রী ছিল।

তাজমিনের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাঠি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকায়। তার বাবা আব্দুল আলীম একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে কুমিল্লা জেলায় কর্মরত। পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করত তাজমিন।

ট্যাগস :

তাজমিন হত্যাকান্ড নিয়ে যা বললেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

আপডেট সময় : ০৫:২০:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় সুমন (৩৫) নামে এক অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় সুমনের একক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পংকজ বড়ুয়া শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে সকালে সংবাদ সম্মেলনে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে কুমিল্লা নগরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় তাজমিনকে রেসকোর্স এলাকার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অটোরিকশায় তোলেন সুমন। পরে তাকে লালমাইয়ের একটি ফসলি জমিতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে গামছা গলায় পেঁচিয়ে ও মাথা চেপে ধরে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর তাজমিনের ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান সুমন। পরে স্থানীয় একটি পুকুরে গোসল করে বাখরাবাদ এলাকার একটি জঙ্গলে ফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান তিনি। শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদ এলাকার জঙ্গল থেকে তাজমিনের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে ঘরজামাই হিসেবে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে বসবাস শুরু করেন তিনি।

এর আগে অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিক আবুল হাসেমকে শনাক্ত করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চালক হিসেবে সুমনের নাম জানান তিনি। পরে সুমনকে গ্রেপ্তার করে কুমিল্লায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে কুমিল্লা নগরের ফরিদা বিদ্যায়তন উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির অনিয়মিত ছাত্রী ছিল।

তাজমিনের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাঠি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকায়। তার বাবা আব্দুল আলীম একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে কুমিল্লা জেলায় কর্মরত। পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করত তাজমিন।