ঢাকা ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কালীগঞ্জে বিএনপি অফিসে ককটেল বিস্ফোরণ

১২ চেয়ারম্যানসহ ২১ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর নামে মামলা

জি এম সাগর হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৪:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৭ বার পঠিত

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, দুই সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্তমান-সাবেক ১২ ইউপি চেয়ারম্যানসহ ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন পরিষদের বিপরীতে অবস্থিত ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ককটেল সদৃশ বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার ২৬ দিন পর গত শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) কালীগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন সাদপুর গ্রামের মৃত আদম আলী গাজীর ছেলে আফসার আলী গাজী। মামলার নম্বর-৮।

মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫ডি এবং ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক আইনের ৪/৫ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহারে নাম রয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শেখ নাজমুল আহাসান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ইকবাল আলম বাবলু, কুশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোবিন্দ মন্ডল, মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম, সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইন, রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলিম আল-রাজি টোকন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তারালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট, চাম্পাফুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন এবং উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান।

এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট মোজাহার হোসেন কান্টু, ছাত্রলীগ নেতা অনেক মেহেদী, যুবলীগের ভাড়াশিমলা গ্রামের আবু বক্কর, জাহাঙ্গীর আলম, সাদপুর গ্রামের রেজাউল করিম, আসাদুর রহমান, বাগবাটি গ্রামের হাফিজুর রহমান ডোডো, শীতলপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান ও নীলকণ্ঠপুর গ্রামের মজিবুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, লাঠি, হকিস্টিক, রামদা, ককটেল ও লোহার রড নিয়ে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ককটেল সদৃশ বস্তু বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।

বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি ককটেল সদৃশ বস্তু, একটি সবুজ রঙের প্লাস্টিকের বোতল ও ১১টি লাঠি উদ্ধার করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ট্যাগস :

কালীগঞ্জে বিএনপি অফিসে ককটেল বিস্ফোরণ

১২ চেয়ারম্যানসহ ২১ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর নামে মামলা

আপডেট সময় : ০৮:৩৪:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, দুই সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্তমান-সাবেক ১২ ইউপি চেয়ারম্যানসহ ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন পরিষদের বিপরীতে অবস্থিত ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ককটেল সদৃশ বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার ২৬ দিন পর গত শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) কালীগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন সাদপুর গ্রামের মৃত আদম আলী গাজীর ছেলে আফসার আলী গাজী। মামলার নম্বর-৮।

মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫ডি এবং ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক আইনের ৪/৫ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহারে নাম রয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শেখ নাজমুল আহাসান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ইকবাল আলম বাবলু, কুশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোবিন্দ মন্ডল, মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম, সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইন, রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলিম আল-রাজি টোকন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তারালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট, চাম্পাফুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন এবং উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান।

এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট মোজাহার হোসেন কান্টু, ছাত্রলীগ নেতা অনেক মেহেদী, যুবলীগের ভাড়াশিমলা গ্রামের আবু বক্কর, জাহাঙ্গীর আলম, সাদপুর গ্রামের রেজাউল করিম, আসাদুর রহমান, বাগবাটি গ্রামের হাফিজুর রহমান ডোডো, শীতলপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান ও নীলকণ্ঠপুর গ্রামের মজিবুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, লাঠি, হকিস্টিক, রামদা, ককটেল ও লোহার রড নিয়ে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ককটেল সদৃশ বস্তু বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।

বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি ককটেল সদৃশ বস্তু, একটি সবুজ রঙের প্লাস্টিকের বোতল ও ১১টি লাঠি উদ্ধার করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।