ঢাকা ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
থানায় জিডি

যশোরে গৃহবধূর ছবি এআই দিয়ে বিকৃত করে অপপ্রচার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৮:২৮:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৩৪ বার পঠিত

যশোরের বসুন্দিয়া এলাকায় এক গৃহবধূর ছবি সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত ও আপত্তিকর ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ভুয়া আইডি থেকে ওই গৃহবধূকে নিয়ে মিথ্যা ও মানহানিকর অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী হোসনেয়ারা খাতুন।

ভুক্তভোগী হোসনেয়ারা খাতুন যশোরের বসুন্দিয়া এলাকার আকরাম শেখের মেয়ে। জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে তিনি জানতে পারেন, তাঁর অজান্তে কে বা কারা অসৎ উদ্দেশ্যে তাঁর ছবি সংগ্রহ করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করেছে। পরে ওই ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া টিকটক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। অ্যাকাউন্টটির নাম ‘B’ এবং ইউজার নেম ‘@b364003’ বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ওই অ্যাকাউন্টে ভুক্তভোগীর সম্পাদিত ছবি পোস্ট করে বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য ও কুপ্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট তৈরি এবং এআইয়ের মাধ্যমে নগ্ন ও আপত্তিকর ছবি তৈরি করে প্রচার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভ্রান্তিকর বার্তা পাঠানো এবং বিভিন্ন মানহানিকর পোস্টের মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগীর দাবি, বিষয়টি তাঁর সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে এবং সম্মানহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলেও সে নিজের পরিচয় প্রকাশ করেনি। ভবিষ্যতে আরও ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় বিষয়টি থানায় সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করার জন্য আবেদন করেন তিনি।

সচেতন মহলের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও বিকৃত কনটেন্ট ছড়িয়ে ব্যক্তির সম্মানহানি, ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্যের অপব্যবহার এবং ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এ ধরনের ঘটনায় আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল কনটেন্টের তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করা জরুরি।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, জিডিটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

থানায় জিডি

যশোরে গৃহবধূর ছবি এআই দিয়ে বিকৃত করে অপপ্রচার

আপডেট সময় : ০৮:২৮:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যশোরের বসুন্দিয়া এলাকায় এক গৃহবধূর ছবি সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত ও আপত্তিকর ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ভুয়া আইডি থেকে ওই গৃহবধূকে নিয়ে মিথ্যা ও মানহানিকর অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী হোসনেয়ারা খাতুন।

ভুক্তভোগী হোসনেয়ারা খাতুন যশোরের বসুন্দিয়া এলাকার আকরাম শেখের মেয়ে। জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে তিনি জানতে পারেন, তাঁর অজান্তে কে বা কারা অসৎ উদ্দেশ্যে তাঁর ছবি সংগ্রহ করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করেছে। পরে ওই ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া টিকটক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। অ্যাকাউন্টটির নাম ‘B’ এবং ইউজার নেম ‘@b364003’ বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ওই অ্যাকাউন্টে ভুক্তভোগীর সম্পাদিত ছবি পোস্ট করে বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য ও কুপ্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট তৈরি এবং এআইয়ের মাধ্যমে নগ্ন ও আপত্তিকর ছবি তৈরি করে প্রচার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভ্রান্তিকর বার্তা পাঠানো এবং বিভিন্ন মানহানিকর পোস্টের মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগীর দাবি, বিষয়টি তাঁর সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে এবং সম্মানহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলেও সে নিজের পরিচয় প্রকাশ করেনি। ভবিষ্যতে আরও ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় বিষয়টি থানায় সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করার জন্য আবেদন করেন তিনি।

সচেতন মহলের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও বিকৃত কনটেন্ট ছড়িয়ে ব্যক্তির সম্মানহানি, ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্যের অপব্যবহার এবং ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এ ধরনের ঘটনায় আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল কনটেন্টের তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করা জরুরি।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, জিডিটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।