ঢাকা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মসজিদে মসজিদে জায়নামাজ উপহার দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী শামীম Logo যশোরে দুই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান Logo যশোরে বনফুল মিষ্টির দোকানকে লাখ টাকা জরিমানা Logo চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমীর সংসদ সদস্য রুহুল আমিন পুনর্নির্বাচিত Logo মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করে আলোচনায় আলমডাঙ্গার ওসি রাকিবুল ইসলাম Logo শার্শায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর উদ্বোধন Logo চিতলমারীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২ Logo ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত পারভেজের পাশে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত Logo যশোর জেলা জামায়াতের আমীরের শপথ নিলেন গোলাম রছুল এমপি Logo সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের নিরাপত্তায় আনসার, প্রস্তুত স্ট্রাইকিং ফোর্স
আধ্যাত্মিক সাধনা, লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অনন্য মিলনস্থল

নড়াইলের ঐতিহাসিক তারাপুর দরগা শরীফ

নড়াইল সংবাদদাতা
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / ১৫৮ বার পঠিত

নড়াইল সদর উপজেলার তারাপুর গ্রামের নিভৃত পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছে জারী গানের সম্রাট, চারণ কবি মোসলেম উদ্দিনের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক “দরগা শরীফ”। এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং বাংলা জারী গানের ইতিহাস, আধ্যাত্মিক সাধনা ও লোকসংস্কৃতির এক জীবন্ত সাক্ষী।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, জীবদ্দশায় চারণ কবি মোসলেম উদ্দিন প্রায়ই এই দরগা শরীফে বসে মহান আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসূল (সা.)-এর ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। তাঁর রচিত অসংখ্য কালজয়ী জারী গানের অধিকাংশই এই পবিত্র স্থানকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে দরগা শরীফটি আজও তাঁর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের এক মূল্যবান নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।

মোগল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এক গম্বুজবিশিষ্ট এই দরগা শরীফের আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর মনোরম ও শীতল পরিবেশ। বছরের প্রায় সব সময়ই এখানে শীতল বাতাস প্রবাহিত হতে দেখা যায়, যা দর্শনার্থীদের মনে এক অনাবিল প্রশান্তির অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

বর্তমানেও প্রায়শই দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মোসলেম উদ্দিনের শিষ্য, ভক্ত ও অনুসারীরা এখানে এসে নিরিবিলি পরিবেশে ধ্যানমগ্ন হয়ে সময় কাটান। অনেকেই এটিকে আত্মশুদ্ধি ও মানসিক প্রশান্তির এক অনন্য স্থান হিসেবে মনে করেন।

চারণ কবি মোসলেম উদ্দিন ১৯০৪ সালের ২৪ এপ্রিল নড়াইল সদর উপজেলার তারাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জারী গানের মাধ্যমে তিনি গ্রামীণ জনপদের মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে তুলেছিলেন। দীর্ঘ কর্মময় জীবনের পর ১৯৯০ সালের ১৯ আগস্ট তিনি লক্ষ লক্ষ ভক্ত-অনুরাগীকে শোকসাগরে ভাসিয়ে পরপারে পাড়ি জমান।

তবে মৃত্যুর পরও তাঁর স্মৃতি, সৃষ্টি ও আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার আজও বেঁচে আছে তারাপুরের এই ঐতিহাসিক দরগা শরীফকে ঘিরে। সংস্কৃতিপ্রেমী, গবেষক ও ভক্তদের কাছে এটি আজও এক গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান এবং বাংলার লোকসংস্কৃতির গৌরবময় ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।

আধ্যাত্মিক সাধনা, লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অনন্য মিলনস্থল

নড়াইলের ঐতিহাসিক তারাপুর দরগা শরীফ

আপডেট সময় : ০৮:৪৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

নড়াইল সদর উপজেলার তারাপুর গ্রামের নিভৃত পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছে জারী গানের সম্রাট, চারণ কবি মোসলেম উদ্দিনের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক “দরগা শরীফ”। এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং বাংলা জারী গানের ইতিহাস, আধ্যাত্মিক সাধনা ও লোকসংস্কৃতির এক জীবন্ত সাক্ষী।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, জীবদ্দশায় চারণ কবি মোসলেম উদ্দিন প্রায়ই এই দরগা শরীফে বসে মহান আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসূল (সা.)-এর ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। তাঁর রচিত অসংখ্য কালজয়ী জারী গানের অধিকাংশই এই পবিত্র স্থানকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে দরগা শরীফটি আজও তাঁর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের এক মূল্যবান নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।

মোগল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এক গম্বুজবিশিষ্ট এই দরগা শরীফের আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর মনোরম ও শীতল পরিবেশ। বছরের প্রায় সব সময়ই এখানে শীতল বাতাস প্রবাহিত হতে দেখা যায়, যা দর্শনার্থীদের মনে এক অনাবিল প্রশান্তির অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

বর্তমানেও প্রায়শই দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মোসলেম উদ্দিনের শিষ্য, ভক্ত ও অনুসারীরা এখানে এসে নিরিবিলি পরিবেশে ধ্যানমগ্ন হয়ে সময় কাটান। অনেকেই এটিকে আত্মশুদ্ধি ও মানসিক প্রশান্তির এক অনন্য স্থান হিসেবে মনে করেন।

চারণ কবি মোসলেম উদ্দিন ১৯০৪ সালের ২৪ এপ্রিল নড়াইল সদর উপজেলার তারাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জারী গানের মাধ্যমে তিনি গ্রামীণ জনপদের মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে তুলেছিলেন। দীর্ঘ কর্মময় জীবনের পর ১৯৯০ সালের ১৯ আগস্ট তিনি লক্ষ লক্ষ ভক্ত-অনুরাগীকে শোকসাগরে ভাসিয়ে পরপারে পাড়ি জমান।

তবে মৃত্যুর পরও তাঁর স্মৃতি, সৃষ্টি ও আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার আজও বেঁচে আছে তারাপুরের এই ঐতিহাসিক দরগা শরীফকে ঘিরে। সংস্কৃতিপ্রেমী, গবেষক ও ভক্তদের কাছে এটি আজও এক গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান এবং বাংলার লোকসংস্কৃতির গৌরবময় ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।