ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের বিক্ষোভ
দুই কোটি টাকা নিয়ে মণিরামপুরে সমবায় সমিতির পরিচালক উধাও
- আপডেট সময় : ১০:১৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
- / ২৯ বার পঠিত

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হরিণা এলাকার ‘প্রত্যয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর পরিচালক প্রভাসিন্ধু বিশ্বাস সেন্টুর বিরুদ্ধে প্রায় ৪০০ গ্রাহকের প্রায় দুই কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা সমিতির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ১০ থেকে ১২ শতাংশ লাভের আশায় তারা সমিতিতে লাখ লাখ টাকা আমানত রেখেছিলেন। গত ৪ জুলাই তারা জানতে পারেন, পরিচালক প্রভাসিন্ধু বিশ্বাস সেন্টু সমিতির অর্থ আত্মসাৎ করে আত্মগোপন করেছেন। এরপর থেকেই গ্রাহকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
গ্রাহক প্রভাতী বিশ্বাস জানান, তিনি সমিতিতে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা জমা রেখেছিলেন। কয়েক মাস ধরে টাকা ফেরত চাইলেও পাননি। রিনা বিশ্বাস বলেন, তিনি ১২ লাখ টাকা জমা রেখে নিয়মিত মুনাফা পেলেও এখন মূলধন ফেরত পাওয়া নিয়েই অনিশ্চয়তায় আছেন। সাবিত্রী বিশ্বাস জানান, মেয়ের বিয়ের জন্য সঞ্চয় করা দুই লাখ টাকা আটকে যাওয়ায় তিনি দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
সমিতির হিসাবরক্ষক মধুসূদন মণ্ডল বলেন, পরিচালক প্রভাসিন্ধু বিশ্বাস সেন্টু শার্শায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে বের হয়েছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য দীপক কুমার রায় বলেন, তিনি আগে থেকেই এলাকাবাসীকে ওই সমিতিতে টাকা জমা না রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু অনেকেই সেই পরামর্শ উপেক্ষা করে সেখানে অর্থ বিনিয়োগ করেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রশাসক আলমগীর হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার জানান, অডিট প্রতিবেদনে অভিযোগকারী গ্রাহকদের নাম পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জেলা সমবায় কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে। সমিতির লাইসেন্সও জেলা কার্যালয় থেকেই প্রদান করা হয়েছে।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহিন দায়ান আমিন জানান, অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






















