বাগেরহাটের বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে তরুণদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান
- আপডেট সময় : ১০:৫৯:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / ২১ বার পঠিত

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ। স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গ করা শহীদদের স্মৃতি ধারণ করে থাকা এই স্থানটি পরিচ্ছন্ন ও সংরক্ষিত রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে হেরিটেজ অ্যান্ড নেচার ভয়েসেস বাংলাদেশ।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বাগেরহাট সদর উপজেলার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে দিনব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। এতে সংগঠনের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন।
সকাল থেকে স্বেচ্ছাসেবীরা দলবদ্ধভাবে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, আগাছা পরিষ্কারসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে পুরো এলাকা পরিচ্ছন্ন করে তোলা হয়। তরুণদের এমন উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যেও আগ্রহ ও উৎসাহ দেখা যায়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন হেরিটেজ অ্যান্ড নেচার ভয়েসেস বাংলাদেশের সভাপতি সাহেদ হাসান, সহ-সভাপতি জুম্মান শেখ ও সাধারণ সম্পাদক বায়তুল ইসলাম। এছাড়া রিনা আক্তার, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাইফুল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম, হৃদয় ইসলাম, রুবাইয়া আক্তার লামিয়াসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এস কে হাসিব।
কর্মসূচি সম্পর্কে সংগঠনের সভাপতি মো. সাহেদ হাসান বলেন, বধ্যভূমি শুধু একটি স্মৃতিসৌধ নয়, এটি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ ও বেদনাবিধুর ইতিহাসের সাক্ষী। এসব স্মৃতিবিজড়িত স্থান পরিচ্ছন্ন ও সংরক্ষিত রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে এর ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত করে তোলা আমাদের দায়িত্ব। তরুণদের মধ্যে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণের দায়িত্ববোধ তৈরি করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, একটি জাতি তার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে যত্নের সঙ্গে ধারণ করলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরা সম্ভব। তাই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোর সংরক্ষণে তরুণদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে।
সংগঠনের সদস্যরা বলেন, বধ্যভূমি ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো কেবল স্থাপনা নয়; এগুলো দেশের স্বাধীনতা, আত্মত্যাগ ও গৌরবের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। এসব স্থান সংরক্ষণের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম ও ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তোলা সম্ভব।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় ভবিষ্যতেও বিভিন্ন সামাজিক ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এর ধারাবাহিকতায় বৃক্ষরোপণসহ আরও নানা পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।















